জীবন বাঁচাতে নিরুদ্দেশ আলী হোসেন

আলী হোসেন

চাচাতো ভাইয়ের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে নিরুদ্ধেশ সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জের আলী হোসেন (৩৫) নামে এক যুবককে। ক্ষমতাসীন দলের পদে থাকা চাচাত ভাইয়ের প্রতিহিংসা থেকে বাঁচতে প্রায় চার বছর ধরে নিরুদ্ধেশ রয়েছেন তিনি। পালিয়ে থাকা অবস্থায় ১৪ বছরের কারাদণ্ডের আদেশও হয়েছে তার।

আলী হোসেনের বাড়ি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ থানার চৌধুরীবাজার ইউনিয়নের লক্ষনাবান্দ গ্রাম। তিনি বিরোধী দল ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি) এর স্থানীয় ইউনিয়ন লক্ষনাবান্দের প্রচার সম্পাদক। তার বাবা চেরাগ মিয়া স্থানীয় ব্যবসায়ী। বাবার ‘আলী ভেরাইটিজ ষ্টোর’ নামে ভূষি মালের ব্যবসা দেখাশোনা করতেন।

কিন্তু ২০১৬ সালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে চাঁদাবাজী নিয়ে সংঘর্ষের যেরে ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ফেঁসে যান তিনি। সংঘর্ষ ও চাঁদাবাজীর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক না থাকলেও বিরোধী দল ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (বিএনপি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত ও তার সম্পদ দখলে নিতে হত্যা মামলায় নাম ঢুকিয়ে দেন চাচাতো ভাই ফয়জুল করিম ফয়সল।

চাঁদাবাজি নিয়ে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর ফয়জুল করিম ফয়সল ও যুবলীগের তামিম গ্রুপের মধ্যে প্রথম দফায় সংঘর্ষ হয়। এর যের ধরে ২-১৭ সালের ৩০ মে উভয় গ্রুপের মধ্যে বড়সড় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ের দুই গ্রুপের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে ফয়জুল গ্রুপের কর্মী ও আলী হোসেনের চাচাত ভাই মানিক মিয়া ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

এ ঘটনায় ফয়জুল করিম বাদী হয়ে গোলাপগঞ্জ থানায় দন্ডবিধী ২৩৫, ৩২৬, ৩০৭, ৩০২ ও ৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় আলী হোসেনকে ১ নংসহ মোট ১০ জন এজহার নামীয় আসামী করা হয়।

মামলার পর তিনি আইনজীবীদের পরামর্শে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। এর মধ্যে তার বাবার ব্যবসা দখল করে নেন ফয়জুল করিম ও তার গ্রুপের ক্যাডাররা। একই সঙ্গে আলী হোসেন যাতে আর বাড়ি ফিরতে না পারেন এজন্য পরবর্তীতে পুলিশকে ব্যবহার করে ২০১৮ সালে ১২ আগস্ট বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫ (৩) ও ২৫ ডি ধারায় ১ নং আসামী করে আরেকটি মামলা দায়ের করান। উক্ত মামলায় বাদী হন থানার সহকারী পদির্শক (এসআই) কাঞ্চন কুমার দাস।

এমন পরিস্থিতিতে পড়ে তাকে পলাতকই থাকতে হয়। এর মধ্যে গত ০১ জুন হত্যা মামলার রায় দিয়েছেন সিলেটে জেলা জজ আদালত। এতে আলী হোসেনের ১৪ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ১০ আসামীর মধ্যে বর্তমানে চার আসামী যথাক্রমে আল আমিন হোসেন, সোহরাব আলী, মোতাহার হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ফারুক কারাগারে রয়েছেন।

এদিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফয়জুল করিমের গ্রুপের দখলে। বিষয়টি নিয়ে আলী হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নেওয়া ও মামলার বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিবারের সদস্যদেরও একই পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফয়জুল করিম।

তাদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফয়জুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হত্যাকান্ডে আলী হোসেন জড়িত ছিল কিনা সেটা আদালতে প্রমাণ করেছি। এটা সাংবাদিকের বিষয় না। আর তার যে ব্যবসা দখলের অভিযোগ করা হয়েছে ওই ব্যবসা আসলে আমার। আমার ব্যবসা আমি বুঝে নিয়েছি।’

বিশেষ আইনে মামলার বাদী এসআই কাঞ্চন কুমার দাস বলেন, ‘মামলাটি যখন হয় আমি তখন নতুন পোস্টিং আসি। উর্ধ্বতন মহলের দিকনির্দেশনায় মামলা হয়। আলী হোসেন দোষী কিনা তদন্ত শেষ হলে পরিস্কার হওয়া যাবে।’