জাতীয় স্বার্থ রক্ষিত না হলে ইরানও ভিয়েনা সংলাপে থাকবে না: মুখপাত্র

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক স্থায়ী কমিশনের মুখপাত্র বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা ইরানের যতটা না প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন আমেরিকার। মোহাম্মাদ আব্বাসজাদে মেশকিনি ইরানের বার্তা সংস্থা ইরান-প্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমেরিকার ইরান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি রবার্ট ম্যালি পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবনের সংলাপ সম্পর্কে যে মন্তব্য করেছেন তার কূটনৈতিক গুরুত্ব নেই। তিনি বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করে ইরানের কাছ থেকে ছাড় আদায়ের অভিপ্রায় ব্যক্তি করেছেন।

মেশকিনি বলেন, ইরানও যদি আমেরিকার মতো কূটকৌশলের আশ্রয় নেয় তাহলে আমাদের অবস্থান হচ্ছে, যদি ইরানের জাতীয় স্বার্থ রক্ষিত না হয় তাহলে ইরানও ভিয়েনা সংলাপ থেকে বেরিয়ে আসবে।

ইরানের সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক স্থায়ী কমিশনের মুখপাত্র  বলেন, ইরান নিজের স্বার্থ আদায়ের লক্ষ্যে ভিয়েনা সংলাপে যোগ দিয়েছে। কাজেই তেহরান যদি সেখানে কোনো চুক্তিতে সই করে তাহলে স্বার্থ আদায়ের লক্ষ্যেই করবে অন্য কোনো কারণে নয়। তিনি বলেন, মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি যে ভাষায় কথা বলেছেন তা কূটনীকির ভাষা হতে পারে না।

রবার্ট ম্যালি সম্প্রতি বলেছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে না বাইডেন প্রশাসন। আর ভিয়েনায় চলমান সংলাপে আমেরিকার জাতীয় স্বার্থ রক্ষিত না হলে ওয়াশিংটন এ সংলাপ থেকে বেরিয়ে যাবে।

অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় গত এপ্রিল থেকে চলে আসা ধারাবাহিক সংলাপ যখন একটি পরিণতির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন তখন ম্যালি ওই বক্তব্য দেন। ইরান সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছে, আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা লঙ্ঘন করে এটি থেকে বেরিয়ে গেছে বলে তাকেই আগে এতে ফিরে আসতে হবে। ইরানবিরোধী সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমেরিকা পরমাণু সমঝোতায় ফিরতে পারবে না।

সূএঃ পার্সটুডে