ছেলেকে হত্যার পর লাশ পুঁতে ফেললেন বাবা ও সৎ মা!

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আরিফুল ইসলাম (১৭) নামে এক কিশোরকে প্রায় ছয় মাস আগে হত্যার পর গুম করার অভিযোগে বাবা ও সৎ মাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। অভিযুক্ত বাবা ইমান আলী মোড়ল ও তার তৃতীয় স্ত্রী জোহরা খাতুন কিশোরের সৎ মা।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়নের চাম্পাফুল গ্রামের ঢালী পাড়ায়। এ ঘটনায় শনিবার সকালে নিহত কিশোরের মা খালেদা আক্তার (৪০) থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

চাম্পাফুল ইউপির ২ নাম্বার ওয়ার্ডের সদস্য সাইলুজ্জামান খান জানান, প্রায় ছয় মাস যাবত কিশোর আরিফুল ইসলাম নিখোঁজ রয়েছে। আরিফুল ইসলামের অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেশীরা তার বাবা ইমান আলী মোড়ল ও তৃতীয় স্ত্রী জোহরা খাতুনকে জিজ্ঞাসা করলে তারা বিভ্রান্তিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে এলাকাবাসী ঘটনাটি স্থানীয় ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য কাইয়ুম গাইনকে জানান।

ইউপি সদস্য কাইয়ুম গাইন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ শুক্রবার বিকেলে ইমান আলী মোড়ল ও জোহরা খাতুনের কাছে আরিফুল সম্পর্কে জানতে চান। তারা বলেন, গত চৈত্র মাসের ১ তারিখ রাতে তাদের ছেলে বাড়ির পাশের একটি গাছের ডালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

পরদিন সকালে তারা ঝুলে থাকা লাশ দেখতে পেয়ে, কাউকে কিছু না জানিয়ে বিকেলে আরিফুলকে বাড়ির পাশে কবর দেয়।

আত্মহত্যার ঘটনা কাউকে জানানো হয়নি কেন জানতে চাইলে তারা বলেন, পুলিশকে জানালে মৃত ছেলের কিডনি খুলে নিয়ে যাবে। এজন্য কাউকে না জানিয়ে ইমান আলী একাই বাড়ির পাশে কবর খুঁড়ে ছেলেকে দাফন করেছেন।

বাবা ইমান আলী ও সৎ মা জোহরা খাতুনের রহস্যজনক আচরণ ও বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জনতা আরিফুলকে হত্যার পর লাশ গুম করে পুঁতে রাখার অভিযোগে তাদের আটক করে থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে রাতে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: দেলোয়ার হুসেনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক দম্পতিকে থানায় নিয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে শনিবার সকালে নিহত কিশোরের মা খালেদা আক্তার (৪০) থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার অফিসার ইনচার্জ মো: দেলোয়ার হুসেন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উল্লেখ্য, আরিফুল ইসলাম ইমান আলী মোড়লের প্রথম স্ত্রী খালেদার গর্ভজাত সন্তান। তার তৃতীয় স্ত্রী জোহরা খাতুনের কোনো সন্তান নেই।