ছাত্রকে বলৎকার করে শয়তানের ওপর দোষ চাপালেন মাদ্রাসা শিক্ষক

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ছাত্রকে বলৎকার করে শয়তানের ওপর দোষ চাপালেন এক মাদ্রাসা শিক্ষক। শনিবার (১৯ জুন) দুপুরে পুলিশের কাছে দোষ স্বীকারের সময় তিনি এই কথা বলেন।

ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ‘আমি বিবাহিত। আমার একটি কন্যা সন্তানও আছে। শয়তানের ধোকায় পড়ে আমি ওই ছাত্রের সঙ্গে ভুল করেছি’।

এর আগে শনিবার সকালে উপজেলার তাহযীবুল উম্মাহ ইসলামিক ইনস্টিটিউট থেকে গ্রেফতার করা হয় মাদ্রাসা শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেনকে। তিনি রামগঞ্জ পৌর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে।

এ বিষয়ে রায়পুর থানার ওসি আব্দুল জলিল বলেন, শনিবার সকালে ছেলেকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে এক ছাত্রের বাবা শিক্ষক শাহাদাতের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় পুলিশ হেফাজতে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। পরে তাকে লক্ষ্মীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগী ছাত্রের মা জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ওই মাদ্রাসার হেফজ বিভাগে তার ছেলেকে ভর্তি করা হয়। মাস খানেক ধরে মাথা ও শরীর মালিশের জন্য শাহাদাত তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যেতেন। তখন যৌন হয়রানির শিকার হয়েও শাহাদাতের কাছে শপথ করায় কাউকে তা বলেনি তার ছেলে।

গত মঙ্গলবার বিকালে মাদ্রাসার ৩ তলায় নিয়ে আবারও যৌন নিপীড়ন করা হয় তার ছেলেক। বৃহস্পতিবার ছুটিতে বাড়ি গিয়ে মাকে সব ঘটনা বলে দেয় সে। এই ঘটনায় বিচার দাবি করে শুক্রবার বিকালে মাদ্রাসা কমিটির কাছে অভিযোগ দেন ভুক্তভোগীর মা।

তখনই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল বাতেন শাহাতাদকে বহিস্কার করেন ও তার মায়ের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, ছাত্রের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।