চেক জালিয়াতি মামলায় বেরোবি কর্মকর্তার ৬ মাসের জেল

চেক জালিয়াতির মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখার উপ-পরিচালক রিয়াজুল ইসলামকে ছয় মাসের জেল ও সাত লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে পূর্বেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি থাকায় পুনরায় ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুর জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এসএম আহসানুল হক সাক্ষী-প্রমাণ ও শুনানি শেষে এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিরাজুল ইসলাম। তিনি জানান, রিয়াজুল ইসলাম ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সিরাজুল ইসলাম মিঠুর কাছ থেকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা ধার নিয়ে দলিল হিসেবে একটি চেক দেন।

পরে টাকা পরিশোধে টালবাহানা করতে থাকেন এবং তার দেয়া চেকটি ব্যাংক থেকে ডিজঅনার হয়। এই পরিস্থিতিতে চেক জালিয়াতির মামলা করেন মিঠু। রায়ে রিয়াজুলকে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করেন আদালত। রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী।

এদিকে রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে বলে জানান আসামি পক্ষের আইনজীবী।

মামলার বাদী মিঠু বলেন, রিয়াজুল টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দিয়ে উল্টো আমার নামে বিভিন্ন হামলা-মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা পরিশোধ করতে নানান টালবাহানা করে। ধার নেয়া টাকা ফেরত না দিয়ে তিনি আমাকে চেক দিলে ব্যাংকে গিয়ে দেখি অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।

পরবর্তীতে চেক ডিজঅনার হলে প্রথমে লিগ্যাল নোটিশ-পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ার পর আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। মামলার খরচ বাবদ ইতোমধ্যে অনেক টাকা চলে গেছে। তারপরও আদালতের মাধ্যমে রায় পেয়েছি এটাই অনেক।

এদিকে মামলার বিষয়টি গোপন রেখে চাকরিতে বহাল ও পদোন্নতি বিষয়টি খতিয়ে দেখে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনা বলেন, আইনের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শতভাগ শ্রদ্ধাশীল। বিষয়টি পর্যালোচনা করে শিগগিরই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।