চুমু খাওয়ার ঘটনায় ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

করোনা বিধিনিষেধের মধ্যে সহকারীকে চুমু খাওয়ার ঘটনায় আরও বিপাকে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক। দেশজুড়ে দাবি উঠেছে তার পদত্যাগের। ম্যাট হ্যানককের পদত্যাগ চেয়েছে ব্রিটিশ লেবার পার্টি। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বের করে দেওয়ার দাবি করেছে যুক্তরাজ্যের বহু সাধারণ মানুষ। তারা বলছে, করোনা বিধিনিষেধ আইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ম্যাট হ্যানকক, আর তিনিই সে আইন ভঙ্গ করেছেন। যা গুরুতর অপরাধ। দেশের উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা হিসেবে তার পদত্যাগ করা উচিত।

ম্যাট হ্যানকককে মন্ত্রিসভা থেকে বরখাস্ত করার দাবি করেছে ব্রিটিশ লেবার পার্টি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের প্রতি এ দাবি জানায় দলটি। হ্যানককের এমন আচরণকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে লেবার পার্টি। হ্যানকককে পদত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে ব্রিটিশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকেও।

নর্থ নরফোকের সংসদ সদস্য ডানকান বেকার বলেছেন, ‘করোনার বিধিনিষেধের মধ্যে এমন আচরণকে আমি সমর্থন করি না। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে পদত্যাগ করা উচিত’।

এদিকে নানা ধরনের চাপ আর সমালোচনার মুখে করোনা বিধিনিষেধ অমান্য করে সহকারীকে চুমু খাওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ম্যাট হ্যানকক। নিজের এমন আচরণের জন্য ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

এদিকে ক্ষমা চাওয়ার পর ডাউনিং স্ট্রিট বলছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন হ্যানকককে ক্ষমা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি এখানেই শেষ হিসেবে ভাবতে বলেছেন তিনি। ডাউনিং স্ট্রিটের এক কর্মকর্তা বলেছেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বরিস জনসনের।

গত শুক্রবার ম্যাট হ্যানকক ও গিনা কোলাডঅ্যাঞ্জেলোর অন্তরঙ্গ চুমু খাওয়ার ছবি প্রকাশ করে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড দ্য সান। সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারা দু’জনই বিবাহিত। তাদের তিনটি করে সন্তানও রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ৬ মে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভেতর থেকে ছবিটি তোলো হয়। যা ছিল সিসি টিভির ছবি। ছবি প্রকাশের পর তারা দু’জনেরই দুঃখ প্রকাশ করেন। মহামারিরোধে যুক্তরাজ্যজুড়ে চলছে করোনার বিধিনিষেধ। তবে কর্মক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টিতে নেই আইনি বাধ্যবাধকতা।

সূত্র: বিবিসি