চুক্তির পর নতুন টোপ নিয়ে আমিরাতে হাজির ইসরায়েলের মোসাদ প্রধান

গত কয়েকদিনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়নে যেন উঠেপড়ে লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েল ও মুসলিম রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাত।

২০১০ সালে দুবাইয়ের একটি হোটেলে এক হামাস নেতাকে হত্যায় ইসরায়েলের গোয়েন্দা বাহিনী মোসাদ দায়ী বলে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছিল।

এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে প্রথমে কথিত ঐতিহাসিক চুক্তি, এরপর টেলিফোন যোগাযোগ চালু, এবার খোদ মোসাদ প্রধান ইয়োসি কোহেন আমিরাত সফর করে সম্পর্কোন্নয়নের পথকে আরও একধাপ এগিয়ে নিলেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, ইসরায়েলের মোসাদ প্রধান আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও অভিন্ন স্বার্থে পারস্পরিক মত বিনিময় করেছেন দুই কর্মকর্তা। এছাড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়েও তারা কথা বলেছেন।

 

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই লক্ষ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।

 

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা  জানিয়েছে, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের স্বাধীনতার ঘোষণার পর ইসরায়েল ও আরবের মধ্যে এটি তৃতীয় চুক্তি। এর আগে মিশর ১৯৭৯ সালে ও জর্ডান ১৯৯৪ সালে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল।

 

এখন পর্যন্ত উপসাগরীয় কোনো আরব দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। যদিও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলায় ইসরায়েলের সঙ্গে এসব দেশের অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ রয়েছে।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম  জানিয়েছে, চুক্তির আওতায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল ও আমিরাতের প্রতিনিধিরা বিনিয়োগ, পর্যটন, সরাসরি বিমান চলাচল, নিরাপত্তা, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও দূতাবাস স্থাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর করবেন।

 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আবুধাবির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন জায়েদ ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি স্বাক্ষর ইস্যুতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়, তাদের আশা এই বিরাট ঐতিহাসিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির অগ্রগতিকে এগিয়ে নেবে।

সূত্র : আল-জাজিরা