চীনে সেনা অভিযানের হুশিয়ারি ভারতের

লাদাখে আলোচনার মাধ্যমে চীনা ‘আগ্রাসন’ ঠেকানোর চেষ্টা ব্যর্থ হলে প্রয়োজন হলে সেনা অভিযান চালানো হবে। ভারতের সেনাবাহিনীতে সেভাবেই প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এভাবেই হুশিয়ারি দিয়েছেন ভারতের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত। রোববার দেশটির এক গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লাদাখের পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নয়াদিল্লি।

দু’দেশের মধ্যে যদি সেনা এবং কূটনৈতিক পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হয়, তাহলে সেনা অভিযানকেই বিকল্প পথ হিসেবে বেছে নেব আমরা।

লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে কী কী পদক্ষেপ করা যায় সমগ্র বিষয়টি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল পর্যালোচনা করছেন বলেও জানান রাওয়াত।

গত আড়াই মাসে সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে বেশ কয়েক দফা আলোচনা চালিয়েছে ভারত ও চীন। কিন্তু পূর্ব লাদাখ নিয়ে বিতর্কের মীমাংসার সম্ভাবনা দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার ফের দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে বেঠক হয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের চুক্তি ও প্রোটোকল মেনে দ্রুত লাদাখ নিয়ে বিতর্ক মিটিয়ে ফেলা হবে।

তবে চীনা সেনারা পূর্ব লাদাখে সীমান্তের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছে না বলে অভিযোগ নয়াদিল্লির। বিপিন রাওয়াত বলেন, যদি সীমান্ত সংক্রান্ত কোনো প্রোটোকল চীন অমান্য করে তাহলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে দেশটিকে।

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি যেভাবে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা লঙ্ঘন করছে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

জেনারেল রাওয়াত জানান, লাদাখে স্থিতাবস্থা বজায় আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল।

জুলাইয়ের শুরুতে সীমান্তে উত্তেজনা কমানোর জন্য অজিত ডোভাল ফোনে দুই ঘণ্টা কথা বলেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে। তারপর সীমান্তে দুই দেশই সেনার সংখ্যা কমিয়ে আনতে থাকে।