চীনকে মোকাবিলায় ভয়ংকর ট্যাংক নিয়ে আসছে ভারত

প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর (এলএসি) পাহাড়ি অঞ্চলে চীনকে মোকাবিলায় রুশ-নির্মিত স্প্রাট-এসডিএম১ হালকা ট্যাংক সংগ্রহের কথা ভাবছে ভারত। গ্রীষ্মের শেষ দিকে এ ধরনের অস্ত্রের পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারে দেশটি।

নির্মাণাধীন এই পণ্যের পরীক্ষা এখন পর্যন্ত কোনো দেশ প্রত্যক্ষ করেনি। নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিভাগের সূত্রের বরাতে দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, ১৮-টন ওজনের স্প্রাটের দিকে তাকিয়ে আছে ভারত। কারণ এটির সঙ্গে টি-৯০ ট্যাংকের বন্দুকও থাকবে এবং একই পরিমাণ গোলা নিক্ষেপে সক্ষম হবে।

ভারত বর্তমানে টি-৯০ ও টি-৭২ ট্যাংক পরিচালনা করছে। এ দুটির মূল উৎসও রাশিয়া। এর অর্থ হচ্ছে, স্প্রাটের রসদ ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা সাঁজোয়া বাহিনীর থেকে ভিন্ন কিছু হবে না। রাশিয়া স্প্রাট ট্যাংক ব্যবহার শুরু করেছে বলেই ব্যাপকভাবে মনে করা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, ট্যাংকটি এখন পরীক্ষাধীন এবং নির্মাণের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। হালকা ট্যাংকের পরীক্ষায় রাশিয়ার অনুমোদনে ভারতকেও অন্তুর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

২০২০ সালের আগস্টে রাশিয়া সফরে নিজেদের হালকা ট্যাংকের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তখনই রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্প্রাট-এসডিএম১ হালকা ট্যাংকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাকে। লাদাখে চীনের সঙ্গে দীর্ঘ অচলাবস্থার সময় টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছিল ভারত। যার ওজন ৪৬ টন। এর আগে টি-৭২ ট্যাংক মোতায়েন করা হয়েছিল, যেটির ওজন ৪৫ টন।

বিপরীতে অন্যান্য সাঁজোয়া যানের পাশাপাশি টাইপ ১৫ নতুন হালকা ট্যাংক মোতায়েন করেছে চীন। স্প্রাট-এসডিএম১ হচ্ছে বিশ্বের একমাত্র হালকা উভচর যুদ্ধযান, যেটি মূল যুদ্ধ ট্যাংকের মতোই ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা রাখে। এছাড়া ভাসমান অবস্থায়ও কামান দাগানোর সক্ষমতা আছে এই ট্যাংকের।

একমাত্র স্প্রাট-এসডিএম১ ট্যাংকই গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে। এটির সমতুল্য ট্যাংক হচ্ছে, চীনের টাইপ ১৫ হালকা ট্যাংক ও তুরস্কের কাপলান এমটি মাঝারি ট্যাংক।