ঘটনা ঘটলেই সামনে আনা হয় নারীর ব্যক্তিগত জীবনের ছবি ও ভিডিও

আলোড়িত ঘটনা; হত্যাকাণ্ড ঘটলেই মূল বিষয়কে পাশ কাটিয়ে সামনে আনা হয় নারীর ব্যক্তিগত অনেক কিছু। নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের সম্মানহানি করা হয়। যা আইন পরিপন্থী। কারো ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে না ছড়ানোর বিষয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও থাকলেও মানছে না কেউ।

২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর। সিলেটে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী খাদিজাকে কুপিয়ে জখম করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বদরুল। ওই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খাদিজার ব্যক্তিগত ছবি ভাইরাল করা হয়।

২০১৯ সালের ২৬ জুন। বরগুনা শহরের সরকারি কলেজ গেটের সামনে কুপিয়ে খুন করা হয় রিফাত শরীফকে। ঘটনার পর পরই মূল বিষয় রেখে মিন্নি নামে এক নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ক্ষুদেবার্তা ছড়িয়ে দেয়া সাইবার দুনিয়ায়।

গত বছরের ৬ ডিসেম্বর। অভিনয়শিল্পী ও উপস্থাপক মিথিলা বিয়ে করেন ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা সৃজিত মুখার্জীকে। এই বিয়ের পর ব্যাপকভাবে আক্রমণ করা হয় মিথিলার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে। পরে মিথিলা হাইকোর্টের দুয়ারে গেলে তার সব ধরণের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।

মিথিলার ইস্যুতে রিটকারি আইনজীবী সাবরীনা জেরিন বলেন, ‘এই যে সামাজিক প্রক্ষাপট, সামাজিক চিন্তা-ধারণা, প্রথমে এটাকে পরিবর্তন করতে হবে। যে যেটা পরবে সটা তার নিজের ইচ্ছা। জাস্টিস এনায়েতুর রহিমের কোর্টে অসম্ভব সুন্দর একটা অর্ডার এসেছিলো যে এ রকম ছবি বা কারো চারিত্রিক দিক যেন টানা না হয়।’

চলতি বছরের ১২ জুলাই। করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ঘটনায় আটক হন ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। মূল অভিযোগ রেখে ডা. সাবরিনার ব্যক্তিগত নানা রকম ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া হয়।

আইনজীবী সাবরীনা জেরিন আরো বলেন, ‘ডা. সাবরিনার ব্যাপারটা আসলে, মানুষ মজা পেয়ে যায় এগুলা করতে। সব শিক্ষিত মানুষগুলোও কিন্তু। এটা আমাদের মানসিক সমস্যা।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কারো সম্মানহানি করার বিষয়ে আইনে যথাযথ প্রয়োগের দুর্বলতা থাকায় এমন ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করেন হাইকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সুমাইয়া আজীজ। তিনি বলেন, ‘যদি কোন ব্যক্তি তার সরকারি পজিশন থেকে বা কাজের ক্ষেত্রে তার কাছে কোন তথ্য আসে কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে যেটা কিনা মূল ঘটনা থেকে আলাদা। সেটা সারকুলেট করা আইনত অপরাধ।’

পুলিশের গুলিতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের তথ্যচিত্র নির্মাণের সহযোগী শিপ্রা দেবনাথ। ঘটনার এক পর্যায়ে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। প্রতিকার চেয়ে তার পক্ষে হাইকোর্ট রিট করেন এক আইনজীবী।

নোংরা ভাষায় আক্রমণ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাদ যান না জাতীয় দলের ক্রিকেটারাও। মাঠের পারফরমেন্স খারাপ করলে তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের স্ত্রীকে আক্রমণ করা হয় ফেসবুকে। সম্প্রতি সাকিবের শিশুকন্যাও সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছে।