গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় ব্যাংক এশিয়ার নারী কর্মকর্তা কারাগারে

গ্রাহকদের প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও ১ কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় ব্যাংক এশিয়ার চাকরিচ্যুত নারী কর্মকর্তা সিলভিয়া আক্তার রিনিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে এ আদেশ দেন।

এর আগে আসামি সিলভিয়া আক্তার রিনি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এসময় তার আইনজীবী জামিন চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে দুদক জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন খারিজ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

গত ১৯ জানুয়ারি ব্যাংক এশিয়ার দিলকুশা শাখার সাবেক এক্সিকিউটিভ অফিসার সিলভিয়া আক্তার রিনিকে একমাত্র আসামি করে দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ তাহসিনুল হক। আগামী ২ মার্চ এ মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা যায়, সিলভিয়া আক্তার রিনি দিলকুশা শাখায় ২০১২ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের ৪৫৪টি লেনদেনের মাধ্যমে গ্রাহকদের সুদের মোট ৪ কোটি ৪৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫২০ টাকা নগদ ও হিসাবে স্থানাস্তরের মধ্যে আত্মসাৎ করেন। এর মধ্যে ৪৩৭টি নগদ লেনদেনের মাধ্যমে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০ টাকা ও ১৭টি অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের মাধ্যমে এক কোটি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ৬০০ টাকা অতিরিক্ত তুলে নেন। এর মধ্যে অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের টাকা দিলকুশা শাখা আদায় করতে সক্ষম হয়। কিন্তু নগদ তুলে নেয়া অর্থ তার কাছ থেকে আদায় করা যায়নি।

মামলার সূত্রে আরো জানা যায়, হিসাব ও লেনদেনের অর্থ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পুরো অর্থ সিলভিয়া আক্তার রিনি একাই আত্মসাত করেছেন। বিল ভাউচার অনুমোদনকারী হিসেবে ১২ জন কর্মকর্তা সই করলেও প্রস্তুতকারী ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ২০১৪ সালের থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আত্মসাতের টাকায় সিলভিয়া মোট আট বার বিদেশ সফর করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিলভিয়া আক্তার রিনি এর কোনো জবাব দিতে পারেননি।