গির্জা থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া

পাঁচ মাসের মধ্যে করোনাভাইরাসে সবচেয়ে সংকটময় পরিস্থিতিতে পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দৈনিক সেখানে রেকর্ড রোগী শনাক্ত হওয়ার মধ্যে একটি গির্জার জমায়েত থেকে ৩শ’রও বেশি মানুষের ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
সিউলের সারাং জেইল গির্জার প্রধান যাজক রেভারেন্ড ইয়ুন কোয়াং-হুনেরও করোনাভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নিউজ।

গির্জা থেকে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রমণই দেশটিতে প্রায় ছ’মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা। এ পরিস্থিততে ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে দক্ষিণ কোরিয়া রোববার কড়া সামাজিক দূরত্ব বিধি আরোপ করেছে।

স্থানীয় নিউজ জানায়, যাজক রেভারেন্ড সপ্তাহান্তে করোনাভাইরাসের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে রাজধানী সিউলে একটি সরকার-বিরোধী সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ আছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জে-ইন ওই সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের সমালোচনা করে বলেছেন, “তারা অমার্জনীয় কাজ করেছে। তাদের কারণে মানুষের জীবন হুমকিতে পড়েছে।”

কয়েকদিন ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ায় দৈনিক নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিন অঙ্কে রয়েছে। ‘কোরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশন’ (কেসিডিসি) গত শনিবার ২৪ ঘন্টায় ১৯৭ জন রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। এদের বেশিরভাগই শনাক্ত হয়েছে সিউল মেট্রোপলিটন এলাকায়।

দক্ষিণ কোরিয়া প্রথমদিকে বিশ্বে করোনাভাইরাস সামাল দেওয়ায় সফল দেশগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছিল। লাগাতার এমন করোনাভাইরাস সংক্রমণের উর্ধ্বগতির সঙ্গে লড়াই দেশটিকে এর আগে আর কখনও করতে হয়নি।

কেসিডিসি’র পরিচালক জেয়ং ইয়ুন-কেয়ং এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, “আমরা বর্তমান পরিস্থিতিকে বড় ধরনের ভাইরাস সংক্রমণের প্রাথমিক ধাপ হিসাবেই দেখছি।”

“আমরা এমন এক সংকটের মুখে রয়েছি যে, ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে সংক্রমণ আরও দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকবে। যার ফলে আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে এবং বিরাট অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।