গাছে বেঁধে নির্যাতনের পর দিনমজুরের বাড়ি দখলের অভিযোগ

ঢাকার ধামরাইয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে দিনমজুরের বাড়ি দখল করে টিন দিয়ে দোকান নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

দিনমজুরের বাধাবিপত্তি উপেক্ষা করে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে এ দখলি অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার গঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়িয়া বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ে ওই প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় পূর্বে দিনমজুর মো. আবদুল মজিদ লিজমূলে ১০ শতাংশ সরকারি ভূমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন।

হঠাৎ বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে হাতকোড়া চারিপাড়া গ্রামের মো. রাজা মিয়া ও মো. বেনজীর আহমদ নামে দুই প্রভাবশালী ভাড়া করা সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন নিয়ে ওই দিনমজুরের বাড়ির সামনের অংশ দখল করে টিন দিয়ে দোকানঘর নির্মাণ করেন।

ওই দিনমজুর ও তার স্ত্রী সালেহা বেগমসহ পরিবারের সদস্যরা অবৈধ দখলদারদের বাধা দেন। তবে বাধা উপেক্ষা করে তাদের গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করে দখলদারিত্ব কায়েম করে ওই সন্ত্রাসীরা।

এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের আর্তনাদে এগিয়ে এসে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করলেও ততক্ষণে অবৈধ দখলদাররা ওই দিনমজুরের বাড়ি দখল করে দুটি টিনের দোকানঘর নির্মাণ করতে সক্ষম হয়।

এলাকাবাসীর সার্বিক সহায়তায় ওই ভুক্তভোগী পরিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসিউল হক ও সহকারী কমিশনার অন্তরা হালধারের কাছে ওই অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে সার্ভেয়ার ও নায়েব পরিদর্শন করে অবৈধ দখলদারদের নির্মিত টিনের দোকানঘর অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী দিনমজুর আবদুল মজিদ বলেন, দখলদাররা টিন ও বেড়া দিয়ে সকালে এসে তড়িঘড়ি করে দোকানঘর নির্মাণ করে। বাধা দিলেও আমাদের বাধা না মেনে উল্টো আমার পরিবারের সবাইকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করে। তারা আমার বাড়ির সামনে জোর করে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করে।

এ ব্যাপারে অবৈধ দখলদার রাজা মিয়া ও বেনজীর আহমদ জানান, বাড়ি করে থাকার জন্য দখল করিনি। রাস্তা ঘেঁষে দোকান নির্মাণ করেছি ব্যবসা করার জন্য। আমরা তো আর পুরো বাড়ি দখল করিনি।

তা ছাড়া রাজনীতি করি, এতটুকু সুবিধা ভোগ করার অধিকার তো আমাদের আছেই। এ ব্যাপারে লেখালেখি করে কোনো লাভ হবে না, যা খুশি লেখেন।

এ ব্যাপারে কুশুরা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলেন, সরেজমিন গিয়ে দখলদারদের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। না হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামিউল হক বলেন, অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।