গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনি খেলেন ছাত্রলীগ নেতা

গরু চুরি করে বিক্রির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল (৩০)।

সোমবার রাতে উপজেলার কেরোয়া ইউপির মীরগঞ্জ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কৃষক, ব্যবসায়ী ও নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

আটক শাকিল উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের ছবিলপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

কেরোয়া ইউপির বড় বাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সজীব যুগান্তরকে বলেন, কিছু দিন আগে আমার একটি গরু চুরি হয়। তবে গরু চুরির দুদিন আগে শাকিল সেটি বিক্রির কথা জানতে চেয়েছিল। তখন আমি না করি। তখন এ ঘটনায় আমি শাকিলকে সন্দেহ করেছিলাম।

সোমবার সকালে আমার এক লোকের মাধ্যমে জানতে পারি শাকিল সদর উপজেলার বশিকপুর ইউপির নাগেরহাট বাজারে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে গরু বিক্রির টাকার জন্য অপেক্ষা করছেন। তখনই স্থানীয় লোকদের মাধ্যমে শাকিলকে আটক করে রায়পুরের মিরগঞ্জ বাজারে নিয়ে আসা হয়।

আরেক কৃষক রায়পুরে গাইনের বাড়ির জাকির জানান, শাকিল গত কয়েক দিন ধরে গোপনে পশু চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে আমার গরু চিকিৎসার নামে দেখে আসে। রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার গরু চুরি হয়ে গেছে৷ সে বিভিন্ন মানুষকে ধোঁকা দিয়ে খামার থেকে গরু চুরি করে নিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, রমজানের ঈদ থেকে গরু চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে শাকিল বিভিন্ন এলাকার কৃষকের গরু দিনে দেখে আসে; এর পর রাতে চুরি করত।

সদর উপজেলার হামছাদী ইউপি সদস্য জহির ও ফারুক হোসেন মোবাইল ফোনে জানান, আটক গরুচোর শাকিলের বিষয় নিয়ে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয়ভাবে সালিশবৈঠক হবে। তখনই তার সঠিক বিচার হবে।

এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউপি চেয়ারম্যান এমরান হোসেন নান্নু বলেন, ছাত্রলীগ নেতা শাকিলের গরু চুরির ঘটনাটি শুনেছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা স্থানীয়ভাবে সমাধান চাওয়ায় বৈঠকের তারিখ দেয়া হয়েছে। তখনই সিদ্ধান্ত হবে।

সদর উপজেলার হামছাদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফয়সাল বলেন, ব্যক্তির অপরাধ সংগঠন বহন করবে না। শাকিলকে দ্রুত দল থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া চলছে।

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে অবহিত না। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগ নেতা শাকিল গত তিন দিনে তিনটি গরু চুরি করেছে বলে শিকার করেছেন। তবে আট কৃষকের গরু চুরি হয় বলেও জানিয়েছেন।