গরীব কৃষকের গরু চুরির মাংস ফ্রিজে : কারাগারে যুবলীগ নেতা

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের মেয়ারহাট এলাকার এক যুবলীগ সভাপতি ও তার এক সহযোগীর বিরুদ্ধে রাতের আধারে হতদরিদ্র কৃষকের গরু চুরির অভিযোগ উঠেছে। চুরি করা গরু নদীর ধারে নিয়ে জবাই ও মাংস ভাগবাটোয়ারা করে ফ্রিজে রেখে দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার দুদিনের মাথায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে রয়েছেন তারা।

চুরির অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিদের নাম শাহিন খান ওরফে সিডি শাহিন (৪০) ও তার সহযোগী কসাই শাহিন (৩৮)। এদের মধ্যে সিডি শাহিন ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি। তার বাবার নাম মো. কালু খান। তারা দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের মেয়ারহাট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। কসাই শাহিনের বাবার নাম আবুল হোসেন। তারা ওই ইউনিয়নের কোষাবড় গ্রামের বাসিন্দা। গত বুধবার চুরির ঘটনাটি ঘটে।

জানা গেছে, উপজেলার মেয়ারহাট এলাকার বৃদ্ধ বাবুল হাওলাদার বিগত চার বছর যাবত একই এলাকার জাফর খানের ক্রয়কৃত একটি বাছুর গরু বর্গায় লালন-পালন করে আসছিলেন। গত রোববার গরুটি বিক্রি করার জন্য স্থানীয় কামারখালি বাজারে নেওয়া হলে ৬৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে। আরও দামের আশায় গরুটি বিক্রি না করে বাড়িতে নিয়ে গোয়াল ঘরে বেঁধে রেখে ঘুমিয়ে পড়েন বাবুল হাওলাদার।

পরদিন সোমবার সকালে গরুটিকে কোথাও দেখতে না পেয়ে সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন তিনি। পরে এলাকাবাসী বাবুল হাওলাদারের বাড়ির কাছেই নদীর পাড়ে গরুর চামড়া, রক্ত ও মাথা দেখতে পায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে এ দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন দরিদ্র বাবুল হাওলাদার। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নজরে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

ঘটনার দুইদিন পর গত মঙ্গলবার রাতভর অভিযান চালিয়ে গরু চুরির ঘটনায় দাঁড়িয়াল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ সভাপতি শাহিন খান ওরফে সিডি শাহিন ও তার সহযোগী কসাই শাহিনকে সন্দেহমূলকভাবে আটক করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।

বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলাউদ্দিন মিলন জানান, ‘কৃষক বাবুল হাওলাদারের বর্গা পালিত গরুটি রাতের আঁধারে কেউ নিয়ে যায় এই খবরটি আমাদের নজরে আসার সাথে সাথে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে গরু চুরির কথা স্বীকার করেন তারা।

ওসি জানান, আটককৃতরা পুলিশকে জানায়, গরুটি চুরি করে নদীর তীরে নিয়ে জবাই করে মাথা ও চামড়া ফেলে মাংস নিয়ে তাদের দুইজনের বাড়ির ফ্রিজে রেখে দেয়। এ ঘটনায় আটককৃতদের বিরুদ্ধে কৃষক বাবুল হাওলাদার বাদী মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় যুবলীগ সভাপতি শাহিন ও কসাই শাহিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে বিচারক বরিশাল কারাগারে পাঠান।