গরিবের তালিকায় কোটিপতির নাম!

মহামারী করোনাভাইরাসে সরকারের দেয়া বিশেষ সহায়তা ওএমএসের চালে উপকারভোগীর তথ্য গোপন করে তালিকায় কোটিপতি ব্যবসায়ীকে গরীব বানিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন ছাতক উপজেলার ছৈলাআফজলাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান গয়াস আহমদ।

তার বিরুদ্ধে এ অনিয়ম দুর্নীতির ফলে অনেক অসচ্ছল পরিবারে ওএমএসের চাল পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

জাতির সংকটময় মুহূর্তে বিপাকে পড়া মানুষদের তালিকায় এ অনিয়ম অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করছেন সচেতন মহল। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়।

জানা গেছে, তালিকায় ভুল তথ্য দিয়ে ওয়ার্ডের অসহায়-হতদরিদ্রের নামে খাদ্য অধিদফতরে (তার স্বাক্ষরিত) ৩৬০ জনের একটি তালিকা জমা দেয়া হয়।

ওই ৩৬০টি কার্ড ইস্যু করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান গয়াস আহমদ। তার এই তালিকায় অসহায়-দরিদ্রদের বঞ্চিত করে ওয়ার্ডের বিত্তবান, লাখপতি ও কোটিপতি বন্ধু-বান্ধব ও তার আত্মীয়-স্বজনের নাম দিয়েছেন।

এছাড়াও রাধানগর (২৩৮) আবদুল মালিকের স্ত্রী মালা বেগম, (৩২৬) শিবনগর গ্রামের জবান আলীর ছেলে উকিল আলী নামে ভুয়া কার্ড ও (২৫২ -৩৪৩) রাধানগর গ্রামে ওয়াজিদ আলীর স্ত্রী রুপমালা নামে দুটি কার্ড ইস্যু করেছেন। রয়েছেন একই পরিবারের একাধিক সদস্যও!

২৫০০ টাকা করে ৫০ লাখ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের তালিকা প্রণয়ন করবে সরকার। সেখানে দেখা গেছে, ছৈলা আফজলাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য শেখ নোয়াব আলীর তালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ আসে।

লাকেশ্ব বাজারে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মুহিবুর রহমান দুদুকে গরিব বানিয়েছেন।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদ তার নিজের আত্মীয় স্বজন, শশুড়বাড়ির লোকজনের নাম ও একই পরিবারে একাধিক নাম, কোটিপতি ও লাখপতিদের নামে তালিকা করায় অসহায় হতদরিদ্র মানুষ বাদ পড়েছে।

তালিকায় রয়েছে ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট আত্মীয় মঈন উদ্দিন, বাবুল মিয়া, ফারুক মিয়া, ভাতিজা নুর মিয়া, শ্যালিকা সেলিনা বেগম ও নিকটাত্মীয় আমিরুন নেছার নাম।

এ ব্যাপারে গয়াস আহমদ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ গোলাম কবির জানান, অসহায়-হতদরিদ্রের বঞ্চিত করে তালিকায় বিত্তবানদের নাম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ পেয়েছি ইউপি চেয়ারম্যান গয়াস আহমদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে।