খাগড়াছড়ি সীমান্তে দেড়শ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দিতে চায় ভারত

খাগড়াছড়ির রামগড় ও মাটিরাঙ্গা সীমান্তে শূন্য রেখা হতে দেড়শ গজের ভেতরে নিজেদের নকশায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে চায় ভারত। বিজিবি- বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত এক পতাকা বৈঠকে ভারত বাংলাদেশের সন্মতি চেয়ে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে বিজিবির। তবে বাংলদেশের তরফ থেকে এ ব্যাপারে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত বা সন্মতি দেওয়া হয়নি।

বৃহষ্পতিবার (১৩ আগস্ট) রামগড়-সাব্রুম সীমান্তের মৈত্রী সেতু এলাকায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে রামগড়ের ৪৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল তারিকুল হাকিম এবং বিএসএফের পক্ষে ত্রিপুরার বগাফার ৬৬ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট দীনেশ কুমার সিং নেতৃত্ব দেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, রামগড় ও মাটিরাঙ্গা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার সাব্রুম মহকুমার সীমান্ত এলাকার ১০টি স্থানে দেড়শ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয় নিয়েই শুধুমাত্র আলোচনা হয় বৈঠকে।

৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন রামগড়ের মহামুনি এলাকা হতে লাচারিপাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার সাতটি স্থান ও ৪০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সাদিয়াবাড়ি বিওপির আওতাধীন এক দশমিক শূন্য ৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার তিনটি স্থানে ভারত শূন্য রেখা হতে ১৫০ গজের মধ্যে তাদের নিজস্ব (নকশা)ডিজাইন অনুযায়ী কাটাঁতারের বেড়া নির্মাণ করতে চায়।

বৈঠকে তাদের ওই ডিজাইনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণে বাংলাদেশের সন্মতি চেয়ে বিএসএফের তরফ থেকে একটি প্রস্তাবনা পেশ করা হয়। প্রস্তাবনাটির ব্যাপারে ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হবে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিএসএফকে জানানো হয়।

আর্ন্তজাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী সীমান্তের শূন্য রেখা হতে ১৫০ গজের মধ্যে যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। অথচ ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত দুদেশের যৌথ সার্ভেতে দক্ষিণ ত্রিপুরা সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে দেড়শ গজের মধ্যে ভারতের নির্মিত পাকা রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থায়ী স্থাপনার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।

তার মধ্যে রামগড়ের বিপরীতে অবস্থিত দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম বাজার হতে মনুবাজার পাকা রাস্তার ২২১৩ (১)আর আই সীমান্ত পিলার এলাকায় প্রায় ৩৮৯ মিটার অংশ শূন্য রেখা হতে ১১০ হতে ১২৬ গজের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। এ অবস্থয় ২০১২-১৩ সালের দিকে সীমান্তের যেসব স্থানে গভীর খাদ, উঁচু নিচু পাহাড়, ছড়া, খাল, ঘনবসতি,পাকা রাস্তা ইত্যাদির কারণে শূন্য রেখা হতে ১৫০ বা দেড়শ গজের বাইরে বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়, সেখানে দেড়শ গজের মধ্যে এ বেড়া নির্মাণে বাংলাদেশের অনুমতি চায় ভারত। এরপ্রেক্ষিতে দুদেশের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনার পর শর্ত সাপেক্ষে এতে সন্মতি দেয় বাংলাদেশ।

জানা যায়, খাগড়াছড়ির রামগড়, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি ও উত্তর ফটিকছড়ি সীমান্তের বিপরীতে মোট ২১টি স্থানে ১৫০ গজের মধ্যে বাংলাদেশের ডিজাইন (নকশা) অনুযায়ী ৭ দশমিক ৬১৪ কিলোমিটার কাঁটাতারের এ বেড়া নির্মাণের সন্মতি দেওয়া হয় ভারতকে। সূত্র জানায়, লোহার সিংগেল এংগেলে এক স্তরের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের শর্তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সন্মতি দেওয়া হয়।

জানা যায়, ভারত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন সীমান্তে বিশেষ নির্দিষ্ট স্থানে বাংলাদেশের অনুমোদিত নকশা অনুসরণ না করে তাদের নিজেদের ডিজাইনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করলে বিজিবি’র বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তার মধ্যে গত বছরের অক্টোবর মাসের শেষদিকে ২২১৭/৪ আরবি সীমান্ত পিলারের আওতাধীন রামগড়ের কাশিবাড়ি সীমান্তের ওপারে সাব্রুমের কাঁঠালছড়ির আইল্যামারা এলাকায় শূন্যরেখা হতে মাত্র ৫০ গজের মধ্যে ভারত তাদের নিজেদের নকশায় বেড়া নির্মাণের কাজ শুরু করে। বিজিবি এতে বাধা দিলেও তারা জোরপূর্বক কাজ করতে চাইলে এনিয়ে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুপক্ষের পতাকা বৈঠকের পর ভারত কাজ বন্ধ রাখে। এখনও সেখানে কাজ বন্ধ রয়েছে।

রামগড়স্থ ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল তারিকুল হাকিম, বলেন, বিশেষ নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত নকশা ব্যতিত অন্যকোনভাবে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ করা যাবে না। তিনি বলেন, নকশা বর্হিভুতভাবে কাজ শুরু করায় রামগড়ের কাশিবাড়ির বিপরীতে ভারতের বেড়া নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ৪৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন রামগড়ের মহামুনি, কাশিবাড়ি ও লাচারীপাড়ার প্রায় ৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার ৭ টি স্থান এবং মাটিরাঙ্গার খেদাছড়াস্থ ৪০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সাদিয়াবাড়ি বিওপির আওতাধীন ১ দশমিক শূন্য ৬ কিলোমিটার এলাকায় তিনটি স্থানে ভারত তাদের নিজেদের তৈরি নকশা অনুযায়ী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে চায়।

বৃহষ্পতিবার(১৩ আগষ্ট) রামগড় সীমান্তে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফ এ প্রস্তাব দেয়।বিজিবি অধিনায়ক বলেন, তাদের এ প্রস্তাবনা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিজিবি ব্যবস্থা নেবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া মাটিরাঙ্গার খেদাছড়াস্থ ৪০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্ণেল মো রফিকুল ইসলাম বলেন, সীমান্তের কাঁটাতারের বিষয়টি দুদেশের উচ্চ পর্যায়ের ব্যাপার। ব্যাটালিয়ন লেভেল থেকে এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া বা দেওয়ার সুযোগ নেই। পতাকা বৈঠকে ভারতের দেওয়া নতুন প্রস্তাবনার বিষয়ে বিএসএফকে এ কথাই বলা হয়েছে।