কুয়েতে শ্রমবাজার রক্ষায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানোর দাবি

কঠোর পদক্ষেপের ফলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর ধাপে ধাপে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে মধ্যপ্রাচের দেশ কুয়েত।

দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন কুয়েতে কমিউনিটির নেতা ও বিশিষ্টজনরা।

কুয়েত সরকারের গৃহীত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮ জুলাই থেকে শুরু হবে লকডাউন শিথিলের তৃতীয় ধাপ। দেশটিতে সর্বশেষ লকডাউনে থাকা ফরওয়ানিয়া অঞ্চল ২৬ জুলাই ভোর ৫টা থেকে খুলে দেয়া হয়েছে।

এই ধাপে সরকারি-বেসরকারি খাতে ৫০ শতাংশের কম জনশক্তি নিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। চলমান কারফিউ আরও শিথিল করে প্রতিদিন রাত ৯টা থেকে ভোর ৩টা পর্যন্ত তা বলবত করা হয়েছে।

করোনা থাবায় দীর্ঘদিন কর্মহীন হয়ে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, সেই সংকট কাটিয়ে কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখনও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। পুরোপুরি কাজে যোগদানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় অর্থ সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেননি প্রবাসীরা।

ছোটখাটো ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করলেও বেচাবিক্রি কম হওয়াতে আয় অনুপাতে খরচের পরিমাণ বেশি। ক্ষতি পোষাতে আগের চেয়ে কম জনবল দিয়ে চালানো হচ্ছে প্রতিষ্ঠান। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের আগের বেতন দিতে অপারগতা প্রকাশ করছে, নয়তো চাকরি খুঁজতে বলছে।

নিরুপায় হয়ে অনেকেই কাজ করছে আবার অনেক প্রবাসী ভাবছেন, আগস্ট থেকে ফ্লাইট চালু হলে দেশে ফিরে আসবেন। সব কিছু মিলিয়ে উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন প্রবাসী।

বর্তমান কুয়েতে ৪৮ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে ৩৪ লাখই অভিবাসী। অভিবাসীদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে কুয়েত সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

বৈধ ভিসায় এসেও অবৈধ হয়ে দেশে ফিরে যেতে হয় বাংলাদেশি শ্রমিকদের। কুয়েতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা ও কাজের দক্ষতার সুনাম রয়েছে।

কুয়েতের বর্তমান এ পরিস্থিতিতে কুয়েত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন কুয়েতে কমিউনিটির নেতা ও বিশিষ্টজনরা।