কুন্দুজসহ আরও ২ প্রাদেশিক রাজধানী তালেবানের দখলে

ভৌগলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় কুন্দুজ প্রদেশের রাজধানী কুন্দুজ ও সার-ই-পুল প্রদেশের রাজধানী সার-ই-পুল দখলে নিয়েছে তালেবান। রোববার তালেবান দেশটির উত্তরাঞ্চলের এই দুই প্রাদেশিক রাজধানী দখলে নেয় বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানা গেছে।

রোববার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শহর দু’টির পতন ঘটে বলে সেখানবার বাসিন্দা আর আইনপ্রনেতারা নিশ্চিত করেছেন। তবে সরকারি বাহিনীর সাথে তীব্র লড়াইয়ের পরই তালেবান শহর দুটি দখল নেয় বলে জানা গেছে।

কুন্দুজে ‘চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা’ বিরাজ করছে বলে সেখানকার এক বাসিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে তালেবানও শহর দু’টি দখলের খবর এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন।

সার-ই-পুলের নারী অধিকার কর্মী পারভিনা আজিমি ফোনে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তা এবং নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীর সদস্যরা শহর থেকে তিন কিলোমিটার ব্যারাকে পিছু হটেছে।

চলতি বছরের মে মাসে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর কুন্দুজ দখল তালেবানের বিদেশি বাহিনী তাদের প্রত্যাহারের চূড়ান্ত পর্যায়ে শুরু হওয়ার পর মে মাসে বিদ্রোহীরা আক্রমণ শুরু করার পর থেকে কুন্দুজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তালিবানদের অর্জন বলে মনে করা হচ্ছে।

অনেক বছর ধরেই গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে তালেবান। ২০১৫ সালে শহরটির দখল নিলেও তা ধরে রাখতে পারেনি সংগঠনটি। ২০১৬ সালে আবার কুন্দুজ তালেবানের হাতছাড়া হয়ে যায়।

আফগানিস্তান থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর গত শুক্রবার থেকে এ নিয়ে চতুর্থ প্রাদেশিক রাজধানী দখলে নিল তালেবান।
শনিবার দ্বিতীয় প্রাদেশিক রাজধানী শেবারগান দখল নেয় তালেবান। এর আগে শুক্রবার বিকালে নিমরোজ প্রদেশের রাজধানী জারঞ্জ দখলে নেয় তারা।

আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর তালেবান দ্রুতগতিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকা দখলে নিচ্ছে। দেশটির গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ জায়গা নিজেদের দখলে নেওয়ার পর এখন তারা প্রধান শহরগুলোকে লক্ষ্য করে এগুচ্ছে। লস্কর গাহের রাজধানী হেরাতসহ অন্যান্য প্রাদেশিক রাজধানীগুলোও যেকোনো সময় পতন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।