কিশোর গ্যাংয়ের প্রকাশ্যে দুই ছাত্রকে কোপানোর ভিডিও ভাইরাল, এলাকায় আতঙ্ক

পটুয়াখালীতে কিশোর গ্যাংয়ের গ্রুপগুলো সক্রিয় হয়ে উঠছে। সম্প্রতি শহরের হাসপাতাল রোড এলাকায় দুই শিক্ষার্থীকে কোপানোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরেরে গ্যাং কালচার এবং অস্ত্রের মহড়া বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন জেলাবাসী।

জেলায় মাদক সেবনের ঘটনাকে কেন্দ্র দুই কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করা হয়েছে। হামলার ঘটনার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

আহতরা হলেন-পটুয়াখালী পৌর শহরের একেএম কলেজের স্নাতকের ছাত্র এনামুল হক মুন্না (২২) ও রাজধানীর একটি প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির স্নাতকের ছাত্র নিবির দাস গুপ্ত (২২)। আহতদের বাসা শহরের চরপাড়া এলাকায় বলে জানা গেছে। আহতরা বর্তমানে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে বলে সদর থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

আহত এনামুল হক মুন্না জানান, গত ২২ জুলাই শহরের একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনে অংশ নেয়ার জন্য আহত দুই বন্ধুসহ সহপাঠীরা শহরের সরকারি জুবিলী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যায়। এসময় প্রকাশ্যে মাদকসেবন নিয়ে আহতদের সঙ্গে হামলাকারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে তা মিটিয়ে যে যার মত করে খেলায় অংশ নেয় বলে জানায়। খেলার একপর্যায়ে নিবির দাস গুপ্ত শারীরিকভাবে আহত হলে সহপাঠীরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পানামা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়।

মামলার বিবরণে থেকে জানা যায়, গত ২২ জুলাই শহরের পটিআই রোডস্থ এলাকায় রাজিন ও হৃদয় নামে দুই যুবক প্রকাশ্যে মাদক সেবন করছিলো। এ সময় পটিআই রোডস্থ এলাকার নাসবি তাদের প্রকাশ্যে মাদক সেবন করতে নিষেধ করলে রিজন ও হৃদয় তার (নাসিব) ওপর ক্ষিপ্ত হয়।

এ ঘটনার জেরে ওইদিন দুপুরে নাসিব লাউকাঠী খয়োঘাট এলাকার মুন্না এবং চরপাড়া এলাকার নিবির দাস গুপ্তাকে নিয়ে শহরের পানামা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যায়। এ সময় থানাপাড়া এলাকার সবুররে নেতৃত্বে শিশুপার্ক এলাকার রিফাত, সিফাত, সিমুল বাগের আরমান, সবুজবাগের রিজন, নতুন বাজার এলাকার হৃদয়, পিটিআই রোডের পুলক, আদালতপাড়ার রতন, সাদাত, জুয়েল, সাজিনসহ ৫ থেকে ৬ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে অবস্থান নেয়। মাদক সেবনের বাঁধা দেয়ায় ঘটনার জেরে নাসিবের ওপর তারা হামলা চালালে নাসিব দৌঁড়ে পানামা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দোতলায় চলে যায়। এ সময় নাসিবের বন্ধু মুন্না এবং নবিরি দাস গুপ্তাকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

আহত মুন্নার মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে পটুয়াখালী সদর থানায় একটি মামলা করেন। এদিকে মামলার অধিকাংশ আসামিদের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন থানায় মাদক, ধর্ষণ, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে বলে জানান তিনি।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আখতার মোর্শেদ জানান, হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের এক জনকে ইতিমধ্যে আটক করে জেলে পাঠানো হয়েছে। বাকীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।