কানাডায় ইসলামফোবিয়া রোধে জরুরি সম্মেলনের আহ্বান

কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে মুসলিম পরিবারের চার সদস্য হত্যার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে ‘ইসলামফোবিয়া প্রতিরোধে শীর্ষ সম্মেলন’ আয়োজনের দাবী জানানো হয়। এরপর আগামী জুলাই মাসের শেষ নাগাদ জরুরিভিত্তিতে আয়োজনে আহ্বান জানিয়েছে দেশটির ফেডারেল সরকার।

গতকাল শনিবার (১২ জুন) হাউস অব কমন্সের অধিবেশনে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি)-এর প্রস্তাবনাকে সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন দিয়েছেন দেশটির এমপিরা। এর আগে সংসদীয় অধিবেশনে হত্যার ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

কানাডার লন্ডন-ফ্যানশাওয়ের এমপি লিন্ডসে ম্যাথেসেন জানান, ‘লিবারেল সরকারকে সমবেদনা প্রকাশের বাইরেও যেতে হবে। অন্যান্য পরিবারের মতো একটি মুসলিম পরিবার বাইরে ঘুরতে বেরিয়ে ঘৃণার শিকার হয়ে আর ঘরে ফিরতে পারল না। এমন পরিস্থিতিতে কারো নিজেদেরকে নিরাপদ ভাবা উচিত নয়।’

কনজারভেটিভ পার্টির নেতা ইরিন ওটুল এক টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে কানাডার মুসলিম জনগোষ্ঠীর সমর্থনের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও ইসলামের প্রতি ঘৃণা প্রশমিত করতে একটি শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করতে বলেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডনে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সভায় ওটুল এই হামলাকে সন্ত্রাসী বলে অভিহিত করেন এবং এর জন্য ক্রমবর্ধমান ইসলামোফোবিয়াকে দায়ী করেন।

গত রবিবার (৬ জুন) কানাডার অন্টারিও প্রদেশের লন্ডন শহরে ট্রাক চাপা দিয়ে একটি মুসলিম পরিবারের চারজনকে হত্যা করা হয়। পরিবারের ৯ বছরের একটি শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গতাকাল শনিবার বিকেলে লন্ডনের অন্টারিওর ইসলামিক সেন্টার অফ সাউথওয়েস্টে নিহতদের জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।

হত্যা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নাথানিয়েল ভেল্টম্যান (২০) নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ আটক করেছে এবং তার বিরুদ্ধে চারটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সূত্র : ন্যাশনাল পোস্ট