কাতারের মধ্যস্থতায় ইসরাইল-হামাস সমঝোতা

কাতারের মধ্যস্থতায় চলমান উত্তেজনা আপাতত নিরসনে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইসরাইল এবং গাজার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস।

কাতারের কাছ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা এবং গাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে ইসরাইলি বাধা তুলে নেয়ার বিনিময়ে অন্তত এক মাসের জন্য শান্তি বজায় রাখতে সোমবার দুপক্ষে চুক্তি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

গাজা উপত্যকা ফিলিস্তিনের ইসলামপন্থী শাসকগোষ্ঠী হামাসের নিয়ন্ত্রণে। ইসরাইল হামাসকে সন্ত্রাসীদের সংগঠন বলে বিবেচনা করে। বছরের পর বছর ধরে গাজায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে হামলা-পাল্টাহামলা চলছে।

গত বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে উভয়পক্ষে হামলার তীব্রতা বেড়েছে। গাজা থেকে বেলুনে বিস্ফোরক পদার্থ বেঁধে তাতে আগুন ধরিয়ে ইসরাইলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। গাজা থেকে ইসরাইলে একাধিকবার রকেট হামলাও চালানো হয়েছে। মাঝেমধ্যেই বিমান হামলা এবং ট্যাংক থেকে গাজার দিকে গোলা ছুড়ে তার জবাব দিচ্ছে ইসরাইল।

কাতারের দূত মোহাম্মদ আল ইমাদির উদ্যোগে সোমবার হামাস-ইসরাইল সমঝোতায় পৌঁছেছে। গাজার পুনর্গঠনের জন্য গঠিত কাতারের কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

চুক্তিতে হামাস পুনরায় বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রকল্পগুলো এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার করেছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানানো হয়নি। তবে গত সপ্তাহে হামাস সরকার বিদ্যুতের একটি বাড়তি লাইন এবং একটি নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে, যা হয়তো গাজার উচ্চ বেকারত্বের হার কমাতে সাহায্য করবে।

ওদিকে ইসরাইল বলেছে, তারা কেবল কেরেম শালুম সীমান্ত দিয়ে শুধু নিয়মিত কার্গোগুলোকে গাজায় যাতায়াত করতে দেবে। এ ছাড়া গাজার জেলেদের উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগরের ১৫ নটিক্যাল মাইল এলাকার ভেতর আবারও মাছ ধরার অনুমতি দেবে।

ইসরাইলি মিলিটারি এজেন্সির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেটি আসলে কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব আগে সেই পরীক্ষা হবে।

যদি হামাস এবারও চুক্তির শর্ত মেনে চলতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরাইল তাদের বিরুদ্ধে যথানিয়মে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।