করোনা: রাজধানীতে এতিমখানার শিশুদের মুখে খাবার নেই

করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে ত্রাণ সহায়তা কিছুটা বেশি থাকলেও দিন যত গড়িয়েছে কমেছে ততো সহায়তার পরিমাণ। ফলে খেয়ে না খেয়ে কোনমতে দিন কাটছে অনাথ ও দুঃস্থ শিশুদের। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজধানীর এতিমখানায় থাকা এসব শিশুদের খাবার জোটানোই মুশকিল হয়ে পড়ছে।

ফরিদপুরের আবরারুল হক। বাবা মারা যাওয়ার পর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধের দারুল উলুম বায়তুল জান্নাত মাদ্রাসা ও এতিমখানায় থাকতে শুরু করে। শুরুটা ভাল হলেও করোনা দুর্যোগের ছাপ পড়তে শুরু করেছে তার জীবনে।

আবরারুল হক বলেন, আগে খাবার ভালো দিত। এখন করোনার কারণে খারাপ অবস্থা।

কারওয়ান বাজার রেললাইনের কাছে রহমতে আলম ইসলামী এতিমখানায় ৮০০ এতিম ও দুস্থ ছেলে-মেয়ের বসবাস। সরকারিভাবে ৩২৬ শিশুর জন্য মাথাপিছু দুই হাজার টাকা করে দেয়া হলেও বাকিদের খরচ চলে দানের টাকায়। করোনাকালে সেই তহবিলে টান পড়েছে।

এতিম এক শিশু জানান, এখন খুবই খারাপ অবস্থা যাচ্ছে। আগে ঠিকমতো খাবার পেলেও এখন অনেক সময়ে না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

আরেক শিশু জানান, এখন সকালে দিলে দুপুরে দেয় না। রাতে দিলে সকালে দেয় না। সব সময়ই ডাল ও ভাত।

এতিম খানার দায়িত্বে থাকা এক লোক জানান, তাদেরকে আমরা ঠিকমতো খাওয়ার দিতে পারছি না। এখন ওইভাবে স্যানিটাইজিংসহ অন্য বিষয় ঠিকভাবে দেওয়া সম্ভব না। এরপরও দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তবে বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের শিশুদের এখনই সহায়তার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা।

সমাজ সেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) নুরুল ইসলাম বাসির বলেন, হঠাৎ করে তাদের কষ্ট হচ্ছে এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই। আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেভাবে ৫০ ভাগ সহায়তা দিয়ে থাকি। সেটা হঠাৎ করে পরিবর্তন করা সম্ভব না।

দেশের সরকারি শিশু পরিবার ৮৫টি। নিবন্ধিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৩ হাজার ৯২৮টি, যার প্রায় অর্ধেক শিশু প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে।