করোনা আক্রান্ত মায়ের মৃত্যুর খবর শুনেই ডাক্তারের বুকে ছুরি মারল যুবক!

করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত বাদানুবাদের জেরে হাসপাতালের মধ্যেই আক্রান্ত হলেন এক চিকিত্‍‌সক। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ওই চিকিত্‍‌সককে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় ওই চিকিত্‍‌সক এখন অন্য একটি হাসপাতালে চিকিত্‍‌সাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় ফোন করে হামলাকারী যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মৃত রোগীর ছেলে। খুনের চেষ্টাসহ আইপিসির একাধিক ধারায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার ভোরে চিকিত্‍‌সক নিগ্রহের এই ঘটনা ঘটেছে ভারতের মহারাষ্ট্রের লাতুরে। অভিযুক্তের কড়া শাস্তির পাশাপাশি তাদের সুরক্ষার দাবিতে ফের সোচ্চার স্থানীয় চিকিত্‍‌সক সংগঠন।

মহারাষ্ট্র পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার ভোর ৭টার দিকে চিকিত্‍‌সক নিগ্রহের এই ঘটনা ঘটেছে লাতুরের আলফা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে। হামলাকারীর নাম পুলিশ গোপন রেখেছে। বয়স বছর ৩৫। বাড়ি উদগীরে। হামলাকারী যুবকের মা ২৫ জুলাই কোভিড পজিটিভ নিয়ে লাতুরের ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বছর ষাটেকের ওই রোগীর কো-মর্বিডিটি-সহ দীর্ঘস্থায়ী কিছু অসুস্থতা ছিল। ডাক্তার দীনেশ ভার্মা তাকে দেখছিলেন। রোগীর গুরুতর শারীরিক অবস্থার কথা তিনি আগেই আত্মীয়দের জানিয়েছিলেন।

বুধবার ভোরে মায়ের মৃত্যুসংবাদ শুনে আত্মীয়দের নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছায় ওই যুবক। ওই ডাক্তারকে হাতের নাগালে পেয়ে মৃত নারীর আত্মীয়রা ক্ষোভ ধরে রাখতে পারেননি। উত্তপ্ত বাদানুবাদের সময় মৃতের ছেলে হাতের কাছে থাকা একটি ছুরি দিয়ে ডাক্তারের বুকে, ঘাড়ে ও হাতে আঘাত করে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্ত চিকিত্‍‌সকের অবস্থা গুরুতর। এই হাসপাতালে কোভিড আক্রান্তদের চিকিত্‍‌সা চলায় তাকে অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ হামলাকারী যুবককে গ্রেফতার করেছে।

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের স্থানীয় শাখা চিকিত্‍‌সক নিগ্রহের নিন্দা করেছে। চিকিত্‍‌সকদের সুরক্ষায় সর্বক্ষণের জন্য পুলিশি নিরাপত্তারও দাবি করা হয়েছে।

সূত্র: এই সময়