করোনামুক্ত ১০০ দিন পার করল নিউজিল্যান্ড

মহামারী করোনাভাইরাসে ধাক্কায় যখন বিশ্ব বেসামাল ঠিক তখনই অনন্য নজির গড়েছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে করোনাভাইরাসমুক্ত দেশ হিসেবে ১০০ দিন পার করেছে দেশটি। ভ্যাকসিন ছাড়াই রবিবার দেশটি করোনামুক্তির এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের এই দেশে স্বাভাবিক হয়েছে জনজীবন। চালু হয়েছে খেলাধুলা, চলছে রেস্তোরাঁয় গিয়ে খাওয়া-দাওয়ার মতো নিত্য নৈমিত্তিক জীবন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এখবর জানিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দেশটির সফলতা বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নিউজিল্যান্ডকে করোনা নিয়ন্ত্রণে অন্যদের কাছে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। নিউ জিল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা ৫০ লাখ। ফেব্রুয়ারিতে প্রথম রোগী শনাক্তের পর মোট ১ হাজার ২১৯ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। সর্বশেষ গত ১ মে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

গত ১০০ দিনে নতুন করে করোনায় সংক্রমণের কোনও ঘটনা না ঘটলেও দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলছেন, এ নিয়ে সন্তুষ্টির কোনও সুযোগ নেই।

স্বাস্থ্য দফতরের মহাপরিচালক এশলে ব্লুমফিল্ড বলেন, কমিউনিটি সংক্রমণ ছাড়া ১০০ দিন পাওয়া খুবই গুরুত্বপুর্ণ মাইলস্টোন। কিন্তু যেমনটা আমরা সবাই জানি, আমাদের আত্মতুষ্ট হওয়ার মতো অবস্থা নেই।

তিনি আরও বলেন, নিয়ন্ত্রণ করার পরও বিভিন্ন দেশে কতো দ্রুত ভাইরাসটি পুনরায় ছড়িয়ে পড়ছে তা আমরা দেখেছি। তাই ভবিষ্যতে কোনও সংক্রমণ ঘটলে তা দ্রুততার সঙ্গে নির্মূল করার জন্যে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

নিউ জিল্যান্ডে এখনও ২৩ জন করোনা রোগী রয়েছে। তবে এরা সবাই দেশে প্রবেশকালে সীমান্তে শনাক্ত হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে আইসোলেশানে রাখা হয়েছে।

মার্চে যখন করোনার প্রকোপ বাড়তে শুরু করে বিশ্বে তখন থেকেই কঠোর লকডাউন বিধি আরোপ জারি করেছিল নিউ জিল্যান্ডে। ইউনিভার্সিটি অব ওটাগোর প্রফেসর মাইকেল বেকার বলেন, অত্যন্ত দক্ষ বিজ্ঞান এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঠিক নেতৃত্বের ঐক্য বিশ্বের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। বিশ্বের উচিত নিউ জিল্যান্ডের কাছ থেকে শেখা। পশ্চিমা দুনিয়া সম্পূর্ণ ভুলভাবে এই রোগটিকে পর্যালোচনা করেছে। যার ফল এখন ভুগতে হচ্ছে।