এবার লেবানন ইস্যুতে ফ্রান্স-তুরস্ক সম্পর্কে ফাটল

বৈরুতে বিস্ফোরণের পর লেবাবনে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর সফর ও পরবর্তী বিবৃতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভাসগ্লু ফ্রান্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, আফ্রিকার মতো লেবাননে তারা উপনিবেশিক মানসিকতা বজায় রেখেছে।

রোববার এক সাক্ষাতকারে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, ফ্রান্স এখনো মধ্যপ্রাচ্যে তার নীতিগুলোতে উপনিবেশিক মানসিকতা প্রয়োগ করছে।

তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের নীতিকে অস্থিতিশীল বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ফ্রান্স এই অঞ্চলটিকে তুরস্কের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে।

শীর্ষ কূটনীতিকরা বলছেন, তুরস্কের সঙ্গে ফ্রান্সের বিরোধিতা উপনিবেশিক মানসিকতা থেকে উদ্ভূত। এর কারণ হিসেবে তারা দেখছেন, প্যারিসের সাবেক উপনিবেশিক অঞ্চলে আঙ্কারার প্রভাব বাড়ছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এসব কারণেই আমাদের নিয়ে ফ্রান্স অস্বস্তিবোধ করছে। তারা আফ্রিকা ও ফ্রান্সে তুরস্কের কোম্পানিগুলো সর্বদা পর্যবেক্ষণ করছে; আলজেরিয়ায় ফ্রান্সপন্থী পত্রিকাগুলো তুরস্কের কোম্পানি সম্পর্কে প্রতি ১৫দিনেই সংবাদ পরিবেশন করছে।

তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতাই বলছেন, ফ্রান্স লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে।ফ্রান্স কেন আতঙ্ক আপনি জানেন? প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্স (আফ্রিকা) এই অঞ্চলে উপনিবেশিক অবকাঠামো তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, যখন আমরা আফ্রিকা অঞ্চলে আগ্রহী হতে শুরু করি তখন ফ্রান্সের বিরক্তি শুরু হতে থাকে।

গত মঙ্গলবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দরে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ২২০ জন নিহত হন। আহত হন ৬ হাজারের বেশি মানুষ। এ ঘটনায় লেবানন সফরে যান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোন। এরপর থেকেই তুরস্কের অস্বস্তি বাড়তে থাকে।

এদিকে বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যর্থতার অভিযোগ এনে শনিবার থেকে দুর্নীতিবাজ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে পড়েন সাধারণ মানুষ। এই গণবিক্ষোভের মুখে প্রথমে কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলে টনক নড়ে প্রধানমন্ত্রীর। পরে গণরোষে পড়ে সোমবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্টের হাতে পদত্যাগ পত্র জমা দেন।

কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টের কাছে পদত্যাগ পত্র প্রধানমন্ত্রী জমা দিলে তিনি তা গ্রহণ করেন। ফলে প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ কার্যকর হয়।