এবার মিলতে পারে ধর্ষণে জন্ম নেওয়া শিশুটির পিতৃপরিচয়

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দফায় দফায় একাধিক ব্যক্তির ধর্ষণের শিকার হয়ে পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়া স্কুলছাত্রীর মূল ধর্ষক রাকিব হোসেন (২৮) নামে এক পরিবহন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার দুপুরের দিকে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে ধুনট থানা থেকে তাকে বগুড়া আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাকিব হোসেন উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের আবু তালেবের ছেলে। এর আগে শুক্রবার রাতে নওগাঁ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণে জন্ম নেওয়া সন্তানের মা স্কুলছাত্রী উপজেলার ছোট চিকাশি-মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দা। একই এলাকার কৈয়াগাড়ি গ্রামে নানা রশিদ মন্ডলের বাড়ি থেকে স্থানীয় বালিকা বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। পার্শ্ববর্তী রঘুনাথপুর গ্রামের অফফের আলীর ছেলে বকুল হোসেনের (২৩) সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল বিকেলে বকুল মেয়েটির ঘরে ঢুকে ধর্ষণের সময় ধরে ফেলে নানা। ঘটনাটি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে একই সময় নানা রশিদ মন্ডলও নাতনিকে ধর্ষণ করেন।

ধর্ষণে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হলে তার বাবা বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় মেয়েটির নানা রশিদ মন্ডল ও প্রেমিক বকুল হোসেনকে আসামি করা হয়। এ অবস্থায় ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রী ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

এদিকে আদালতের নির্দেশে থানা পুলিশ সন্তানসহ স্কুলছাত্রীকে রাজশাহী সেভহোমে রাখেন। এ অবস্থায় ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি রশিদ মন্ডল ও বকুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া নবজাতকের জন্মদাতার পরিচয় শনাক্ত করতে রশিদ ও বকুলের ডিএনএ (ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড) পরীক্ষা করা হয়। কিন্ত তাদের ডিএনএ পরীক্ষায় সন্তানের জন্মদাতার পরিচয় মেলেনি। পরিবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে স্কুলছাত্রী পুনরায় রাকিব হোসেনের নাম প্রকাশ করে।

ধুনট থানার এসআই প্রদীপ কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাকিব হোসেন স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায় স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। স্কুলছাত্রীর সন্তানের জন্মদাতার পরিচয় শনাক্ত করতে রাকিবের ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।