এবার ঢামেক হাসপাতাল থেকে আসামির পলায়ন

এবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল থেকে পুলিশ পাহারায় রাব্বী নামে এক আসামি পালিয়ে গেছে। সোমবার দুপুরে সে ডিউটি পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

সবুজবাগ থানার ওসি মাহবুব আলম  বলেন, একটি মারামারির মামলায় গ্রেফতারের পর গত ২৯ আগস্ট শনিবার তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাতপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে সবুজবাগ ওয়াহাব কলোনি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

তার পায়ে গুরুতর জখম ছিল। ঢামেক হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের ২৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিল রাব্বি। ভর্তির সময়ই তাকে আমরা হ্যান্ডকাপ পরিয়ে রেখেছিলাম। তার প্রহরায় ছিলেন দুইজন পুলিশ সদস্য। পাশে তার ছোটভাই শাওনও ছিল।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ছোটভাই শাওনের কাঁধে ভর দিয়ে রাব্বি বাথরুমে যায়। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রহরার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের অবহেলার সুযোগে রাব্বি পালিয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, তাকে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, রাব্বি মাদক, চুরি, মারামারিসহ ১৯টি মামলার আসামি।

এদিকে ঢামেক হাসপাতালের ১০২ নম্বর ওয়ার্ডের এক রোগীর স্বজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার বেলা ৩টা থেকে ৪টার দিকে আমি আমার রোগীর বেডেই বসা ছিলাম। তখন পুলিশ ওয়ার্ডের বাইরে ছিল। এ সময় ওই আসামি ছোট ভাইয়ের কাঁধে ভর করে বাথরুমে যাওয়ার নাম করে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওয়ার্ডের পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

সবার সামনে দিয়ে সে গেলেও আমরা কেউ ধারণা করতে পারিনি সে পালিয়ে যাচ্ছে। এর কিছুক্ষণ পরই পুলিশ তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তখনই আমরা বুঝতে পারি ওই আসামি পালিয়েছে।

তার এক পায়ে ব্যান্ডেজ করা ছিল। একই ওয়ার্ডের আরেক রোগীর স্বজন জানান, আসামির হাতে হ্যান্ডকাপ পরা ছিল। তার সঙ্গে যে ছেলেটা ছিল সে তাকে পাখা দিয়ে বাতাস করত সবসময়। আমরা যার যার রোগী নিয়ে ব্যস্ত থাকায় খেয়াল করিনি কখন পালিয়ে গেছে।

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পালিয়ে যায় আসামি মিন্টু মিয়া (২৮)। তবে পালানোর ১০ ঘণ্টার মধ্যেই শনিবার দুপুরে বাবুবাজার সেতু এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তিনজন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকার জেল সুপার ইকবাল কবীর চৌধুরী।