এনজিও থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ, অবশেষে আত্মহত্যা

জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সীমান্ত এলাকা আটাপাড়া উত্তর গোপালপুর গ্রামের আফাজ উদ্দিনের ছেলে মজনু মিয়া (৫২) ঋণের বোঝা সইতে না পেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন।

মজনু ও তার স্ত্রী মিলে বিভিন্ন এনজিও থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নেন। ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করতে পারলেও গত এক বছর যাবত ১৩ লাখ টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়াত পরিবারের সবাই।

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মজনু ও স্ত্রী শরিফা জাকস ফাউন্ডেশন থেকে ৪ লাখ, আশা থেকে আড়াই লাখ, ব্র্যাক থেকে ৪০ হাজার, গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৯০ হাজার ও টিএমএসএস থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন।

এনজিওগুলোর পাস বইয়ে দেখা যায়, মুরগির খামার, সাধারণ ব্যবসা ও অটো-চার্জার ক্রয়ের শর্তে তাদের ঋণ দেয়া হয়। শরিফা তার ভাবি, বোন ও ভাতিজির নামেও বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা ঋণ উত্তোলন করেন নিজে পরিশোধের শর্তে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলেন, তাদের কোনো জমি-জমা নেই, নেই তেমন কোনো বৈধ ব্যবসা। শুধু একটা পাকা বাড়ি দেখেই এনজিওগুলো এত টাকা কেন ঋণ দেয়।

মজনুর বয়স্ক বাবা আফাজ উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে কিস্তির টাকা দিতে না পারায় বউ-ছেলেমেয়ে কেউ বাড়িতে থাকে না। গত বুধবার বাড়িতে এলে সবাই টাকার জন্য চাপ দেয়; এতেই আমার ছেলে বিষপানে আত্মহত্যা করে।