উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করায় ধর্ষিতা এলাকা ছাড়া

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে টানা ৩ বছর ধরে কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানের লালসার শিকার তরুণীকে এবার পরিবারসহ এলাকা ছাড়তে হল। ধর্ষক উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করায় নিজের বাড়িঘর ছেড়ে আরেক জেলায় গিয়েও নিরাপত্তা হুমকিতে রয়েছেন ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার ওই তরুণী।

রোববার সকালে বরিশাল প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন ধর্ষিতা তরুণী। তার অভিযোগ কাঁঠালিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এমাদুল হক মিলন অব্যাহত হুমকি এবং বাড়িতে লোক পাঠিয়ে ঘরছাড়া হতে বাধ্য করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিতা তরুণী বলেন, ২০১৭ সালে এসএসসি পাস করে কাঁঠালিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনিরের কাছে পারিবারিক দৈন্যতার কথা তুলে ধরে চাকরির আবেদন করেন।

সেখান থেকে মুঠোফোনে আলাপ জমে প্রেমে পড়েন কিশোরী। ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল কাঁঠালিয়া থেকে কিশোরীকে নিয়ে বরিশালের সোবাহান কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ী মিঠু সিকদারের আগরপুর রোডের বাসায় ওঠেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মনির।

তিনি বলেন, এটি মিঠুর পারিবারিক বাসভবন বললেও পরে বুঝতে পারেন তাকে নিয়ে ব্যাচেলর বাসায় উঠেছে। সেখানে আটকে রেখে বন্ধুর সহায়তায় তরুণীকে ধর্ষণ করেন মনির। এ ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়লে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির তার বন্ধুর মাধ্যমে একজন হুজুর এনে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে মেয়েটিকে জানান- তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী অভিযোগ করেন, ভাইস চেয়ারম্যান থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এমাদুল হক মিঠু। তিনি চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত ঢাকা, বরিশালসহ বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন তরুণীকে। তবে আগস্ট মাসে বিয়ের কাগজপত্র দেখতে চাইলে এমাদুল হক মিঠু ওই তরুণীকে জানিয়ে দেন- প্রকৃতপক্ষে তাদের কোনো বিয়েই হয়নি।

এ ঘটনায় গত ২৫ আগস্ট বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন ওই তরুণী। তাতে উপজেলা চেয়ারম্যান মনির এবং তার বন্ধু মিঠু সিকদারকে আসামি করা হয়েছে।

ওই তরুণী অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর ধর্ষণের ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ সাজু সালিশের চেষ্টা করেন। এদিকে উপজেলা চেয়ারম্যান মামলার খবর পেয়ে তরুণীর বাড়িতে লোক পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে আসেন। ভয়ে তরুণী এলাকাছাড়া হয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ফরিদপুরে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান নিয়েছেন বলেও জানানো হয়।

অপরদিকে তরুণীর সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগ মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মনির। রোববার নিজ এলাকায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।