ইসিকে অকার্যকর করার চেষ্টা: টিআইবি

নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা সরিয়ে নেয়া একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এ ধরনের উদ্যোগ কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দেয়ার হীন চেষ্টা। ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে। সার্বিক বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটের অধিকার নয় বরং বিশেষ কোনো দলীয় রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

দুর্নীতিবিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি) বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি এ কথা বলেছে।

সংস্থাটি বলছে, দেশের মানুষের মধ্যে যখন নির্বাচন নিয়ে অনাগ্রহ ও আস্থার সংকট বাড়ছে, সেই সময়ে কমিশনকে আরও দুর্বল করার হীন উদ্যোগ কার স্বার্থে, তা পরিষ্কার নয়। এছাড়াও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় নির্বাচন কমিশনারদের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

উলে­খ্য, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, (আরপিও) ১৯৭২’ এর ৯১ই ধারায় কোনো প্রার্থীর, প্রার্থিতা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতা, নির্বাচন কমিশনের কাছে ছিল। সম্প্রতি ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আইন ২০২০’ এর খসড়া তৈরি হয়েছে। এতে ইসিকে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা দেয়া হয়নি। বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে টিআইবি।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কী যুক্তিতে প্রার্র্থিতা বাতিলের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা সরিয়ে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে, তা পরিষ্কার নয়। তিনি বলেন, এটি ভালো কোনো উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না।

এটা কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দেয়ার হীন চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না। তিনি আরও বলেন, এই ক্ষমতা প্রয়োগের সৎসাহস রাখেন না বিধায়, এই উদ্যোগ কি না সেই প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক। এর মানে হল, মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলা।

তিনি বলেন, জনগণের কাছে কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা কোন অবস্থানে আছে, সেটা অনুধাবন করতে পারাটা এখন তাদের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। তার মতে, জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে নির্বাচন কমিশনের, যেখানে সাংবিধানিক মর্যাদা ও সুনাম পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট থাকা উচিত, সেখানে জেনে-বুঝেই তারা রাজনৈতিক ক্ষমতার কাছে আত্মদানের পরিকল্পনা করছে।

তিনি আরও বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনন্য স্মারক। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া কেন এটি পরিবর্তনের দরকার পড়ছে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। কমিশনাররা মনে হয় ভুলে যাচ্ছে, ইসি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, কারও আজ্ঞাবহ নয়। দেশ ও জাতির স্বার্থে বর্তমান কমিশনের সুমতি যত দ্রুত ফিরবে ততই মঙ্গল।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদ ও পদবি পরিবর্তন নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারবহির্ভূত। কর্তব্যের বাইরে গিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন পরিচালনা আইনের সংস্কার করতে চাচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের সামর্থ্য ও নৈতিক ভিত্তি কতটুকু রয়েছে, সততার সঙ্গে তা আরও একবার ভেবে দেখা উচিত।