ইসরায়েল-আমিরাতের বন্ধুত্ব দেখে আকাশ খুলে দিল সৌদি

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী রাষ্ট্র ইসরায়েলের কূটনীতিক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বহনকারী ইসরায়েলি বিশেষ বিমানটি বন্ধুদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাবে মুসলিম রাষ্ট্র সৌদি আরবের ওপর দিয়ে।

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা । তাদের কথাটি যদি সত্যি হয় তাহলে এটাই হবে প্রথমবারের মতো কোনো ইসরায়েলি বিমানের সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারের স্বীকৃত ঘটনা।

ইসরায়েল-আমিরাত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট) আবুধাবি যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

তাদের বহনকারী ইসরায়েলি পতাকাবাহী এল আল এয়ারলাইনের বিমানটি ৩ ঘণ্টা ২০ মিনিটের ওই ফ্লাইট পরিচালনা করতে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার করবে কি-না এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে জবাবে ‘হ্যাঁ’ বলেছে সূত্রটি। তবে বিশেষ কারণে নিজের নাম ও পরিচয়, এমনকি জাতীয়তাও প্রকাশ করতে রাজি হননি ওই ব্যক্তি।

কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ফিলিস্তিনিদের বুকে ছুরি মেরে দখলদার রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে কথিত শান্তিচুক্তি করেছে মুসলিম রাষ্ট্র আমিরাত। মূলত সেই ধারা আরও এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যেই ১৯৭২ সালের ইসরায়েল বয়কট আইন বাতিল করে দেশটির ব্যবসায়ীদের জন্য দুয়ার খুলে দিয়েছে আমিরাত সরকার। তাদের মতো আরবের অন্যান্য দেশগুলোও একই পথ বেছে নেবে বলে আশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

যদিও চলতি মাসেই সৌদি রাজ পরিবারের এক জ্যেষ্ঠ সদস্য জানিয়েছেন, রিয়াদ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে কেবলমাত্র ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পরেই।

২০১৮ সালে খুব সংক্ষিপ্ত সূচির এক সফরে আচমকা ওমান সফর করেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এত অল্প সময়ের মধ্যে ওমান পৌঁছাতে তিনি সৌদির আকাশসীমা ব্যবহার করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কখনোই এ রুট ব্যবহারের কথা স্বীকার করেনি।

গত ১৩ আগস্ট ইসরায়েল ও আমিরাতের মধ্যে নতুন একটি চুক্তির কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এ চুক্তি অনুসারে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ভূমি অধিগ্রহণ স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল। যদিও ফিলিস্তিনিরা চুক্তিটিকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, এই চুক্তিতে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে।

 

সূত্র: রয়টার্স