ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে বাড়ছে নারী সদস্যের সংখ্যা

মধ্যপ্রাচ্যের ইহুদিবাদী দখলদার রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে নারীদের যোগদানের হার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে গেছে। প্রতিবেশী ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য নারীরা স্বেচ্ছায় দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে দলবেঁধে যোগ দিচ্ছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৮ বছর বয়সী ইসরায়েলি নারী স্মাদার, তার কাঁধে ঝোলানো রয়েছে একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। কঠোর প্রশিক্ষণ চলছে, কিন্তু তারপরও স্মাদারের মুখে অমলিন হাসি।

স্মাদারের নারী প্রশিক্ষক বলিষ্ঠ কণ্ঠে তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন যেন কঠোর অনুশীলন সে পার হয়ে যেতে পারে।

স্মাদার বলছেন, এই ইউনিটকে বেছে নেওয়ার জন্য আমার কোনো আফসোস নেই। আমি সম্ভাব্য সবচেয়ে বেশি লড়াকু ইউনিটে যোগ দিতে চাই।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মধ্যে যে কৌশলপূর্ণ ও ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে তারই অংশ এই নারী সেনা স্মাদার। বিপুল সংখ্যক নারী এই কমবেট ইউনিটটিতে যোগ দিচ্ছেন।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মাত্র আট বছর আগে এই কমবেট ইউনিটে মাত্র তিন শতাংশ নারী ছিল। বর্তমানে এই ইউনিটে নারীর সংখ্যা বেড়ে প্রায় ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সমাজের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপট ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক সৈন্যের অভাব এই দুই কারণেই ‘কমবেট ইউনিট’টিতে নারীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। অনেক নারী নিজ ইচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন। তাদের মতে পুরুষেরা যা পারে, চেষ্টা করলে নারীরাও তা পারে।

প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অবস্থান সমাজের প্রাণকেন্দ্রে। এখানে প্রায় সব ইহুদি নাগরিককেই কাজ করতে হয়। এমনকি ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে থেকেই হাগানায় নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে এই অঞ্চলটি ইহুদি সেনাদের কাছে ভীষণ শক্তিশালী।

বর্তমানে ছেলেদের বয়স ১৮ বছর হলেই দুই বছর আট মাসের জন্য তারা সেনাবাহিনীতে চাকরী করে। অন্যদিকে মেয়েরা দুই বছরের জন্য সেনাবাহিনীতে চাকরী করে।

অতীতে দেখা গেছে যুদ্ধক্ষেত্রে নারীরা রেডিও অপারেটর অথবা সেবিকা হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। যদিও সেই পরিস্থিতি এখন দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে।

ইসরায়েলের সেনাবাহিনীতে ২০০০ সালে নারী ও পুরুষের অংশ গ্রহণে ‘ক্যারাকাল ব্যাটালিয়ন’ নামে প্রথম যৌথ ইউনিট গড়ে তোলা হয়। ওই বছরেই ইসরায়েলে একটি সংশোধিত আইনে বলা হয়, পুরুষদের মতো যে কোনো স্থানে যে কোনো ধরনের কাজ করার সমান অধিকার নারীদের রয়েছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে যে তিনটি যৌথ ইউনিট রয়েছে ‘বারদেলাস’ তার অন্যতম একটি ইউনিট। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে চতুর্থ ব্যাটালিয়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর। আর ইসরায়েলের নারীদের মধ্যেও দিনে দিনে সেনাবাহিনীতে যোগদানের ইচ্ছা বেড়ে চলেছে।

স্মাদারের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন পুরুষ যা করতে পারে একজন নারীও তা পারে।