ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য আরব দেশগুলোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নজিরবিহীনভাবে দখলদার ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ওয়াশিংটনের মিত্র আরব দেশগুলোর মাধ্যমে ইসরাইলের জন্য স্বীকৃতি আদায় করা। এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পম্পেও ফের পশ্চিম এশিয়া সফরে বের হয়েছেন এবং প্রথমেই তিনি ইসরাইলে গেছেন। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা, অন্যান্য আরব দেশের পক্ষ থেকেও ইসরাইলের জন্য স্বীকৃতি আদায় করা এবং ইরানের পক্ষ থেকে কথিত হুমকির বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

সাক্ষাত শেষে এক টুইটবার্তায় পম্পেও বলেছেন, ইসরাইলের প্রতি হোয়াইট হাউজের জোরালো সমর্থন বজায় থাকবে। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার ভাষায় এ অঞ্চলে ইরানের পক্ষ থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা রোধের উপায় এবং আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ইসরাইলের নিরাপত্তা রক্ষায় আমেরিকা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলেও তিনি টুইটবার্তায় উল্লেখ করেন।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে প্রবেশের পর থেকে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে একটার পর একটা বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়ে চলেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিনা শর্তে ইসরাইলকে সমর্থন দেয়া। আগের সরকারগুলো ইসরাইলের অনুকূলে যা করেনি ট্রাম্প তা বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

যেমন বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া, সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে ইসরাইলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা, ইসরাইলের অস্তিত্ব রক্ষায় বিতর্কিত ডিল অ্যব দ্যা সেঞ্চুরি পরিকল্পনা উত্থাপন, সর্বশেষ জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে স্থায়ীভাবে ইসরাইলের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করার প্রচেষ্টা প্রভৃতি পদক্ষেপের মাধ্যমে নজিরবিহীনভাবে ইসরাইলের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া এবং অবৈধ এ দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য সমস্ত আরব দেশের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছেন। এ ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আরব দেশগুলো আমেরিকার প্রধান টার্গেট। এরই অংশ হিসেবে আমিরাত গত ১৭ আগস্ট ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয়।

আমিরাত ভেবেছিল এ পদক্ষেপের মাধ্যমে আমেরিকার কাছ থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র কেনার ওপর সীমাবদ্ধতা উঠে যাবে। এমনকি জর্দান নদীর পশ্চিম তীরকে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত করার চিন্তা থেকে তেলআবিব সরে আসবে বলেও আমিরাত ভেবেছিল। কিন্তু বাস্তবে এসবের কোনটিই হয়নি। বরং আমিরাত ছাড় দিলেও ইসরাইল কোনো ছাড় দেয়নি এবং নিজের অবস্থানে অটল রয়েছে। আমিরাত আমেরিকার কাছ থেকে অত্যাধুনিক এফ ৩৫ যুদ্ধ বিমান কেনার যে প্রস্তাব দিয়েছিল ইসরাইল তারও বিরোধিতা করেছে।

যাইহোক, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইল সফর শেষ করে সুদান, আমিরাত ও বাহরাইনে যাবেন বলে কথা রয়েছে। তার একটাই উদ্দেশ্য আর তা হচ্ছে ইসরাইলের সঙ্গে এ দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্র তৈরি করা।