ইসরাইলের রাজধানীতে ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির হুমকি

ইসরাইলের যে কোনো হামলার কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে হুশিয়ার করে দিয়েছেন গাজা উপত্যকার অন্যতম প্রধান প্রতিরোধকামী সংগঠন ইসলামী জিহাদ আন্দোলনের নেতা জিয়াদ আল-নাখালা।

তিনি বলেছেন, আমাদের একজন নেতাকে হত্যা করা হলেও তেল আবিবের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টিবর্ষণ করে আমরা তার জবাব দেব। সম্প্রতি ফিলিস্তিনি নেতাদের হত্যার ব্যাপারে ইহুদিবাদী ইসরাইল হুমকি দিয়েছে, এর জবাবে ইসলামী জিহাদ নেতা এমন সতর্কবার্তা দিলেন। রুশ বার্তা সংস্থা স্পুৎনিক এ খবর জানিয়েছে।

জিয়াদ আল-নাখালা বলেন, শত্রুরা যা মনে করেছে আমরা তার চেয়ে বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী। প্রতিরোধকামী সংগঠনগুলো চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত তাদের লড়াই অব্যাহত রাখবে।

ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যুদ্ধে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়ার পর ইসরাইল ফিলিস্তিন নেতাদের গুপ্ত হত্যার হুমকি দেয়। গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে চার হাজারের বেশি রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

এতে বাধ্য হয়ে ইসরাইল হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করে। তবে নির্বিচারে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের গ্রেফতার অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নেতাদের গুপ্ত হত্যার হুমকি দেয় ইহুদিবাদী দেশটি।

ফিলিস্তিন প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সঙ্গে টানা ১১ দিন সংঘাতের পর ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। তবে নাম মাত্রই যুদ্ধবিরতি চুক্তি। ২১ যুদ্ধবিরতির পর থেকে নতুন করে কমপক্ষে ২৫০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করেছে ইসরাইলি বাহিনী।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে গাজা যুদ্ধে নির্যাতিত ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করতে কমিটি গঠনে সম্মত হয় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ। ওই পরিষদের ভোটাভুটিতে প্রস্তাবের পক্ষে ২৪ ভোট এবং বিপক্ষে ৯ ভোট পড়ে আর ভোটদানে বিরত থাকে ১৯টি দেশ।

ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র পক্ষ থেকে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে প্রস্তাবটি তোলা হয়। প্রস্তাবটি পাস হওয়ার ফলে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ এখন একটি কমিটির মাধ্যমে গাজায় ইসরাইলের সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করে দেখবে।