ইসরাইলের মায়াজালে ওমানও?

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতোই এবার ইসরাইলের মায়াজালে আটকা পড়তে যাচ্ছে ওমানও। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে আবুধাবি ও তেল আবিবের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই ইসরাইলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।

এরই মধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে মন্ত্রীপর্যায়ে ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ওই ফোনালাপের পর ইসরাইলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাবি আশকেনাজি বলেছেন, সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ ও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ব্যাপারে একমত হয়েছে ওমানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউসুফ বি আলাবি বিন আবদুল্লাহ। আমিরাতের পর ওমান ও বাহরাইনকে যত দ্রুত সম্ভব কাছে টানতে চায় ইসরাইল।

সেই লক্ষ্যেই নজিরবিহীন তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির কর্মকর্তারা। বিশ্বের অন্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মতো ইসরাইলের সঙ্গে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সরাসরি কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।

কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন এই অঞ্চলের মার্কিন মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে ইসরাইলের গোপন ও অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ আছে।

গত সপ্তাহে (বৃহস্পতিবার) প্রথমবারের মতো নিজেদের মধ্যে ‘সম্পর্ক স্বাভাবিক’ করতে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা জানায় আমিরাত ও ইসরাইল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওকালতিতে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে অ্যাখ্যা দেয় ফিলিস্তিনিরা।

অন্যদিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি স্বাক্ষরের ক্ষণকে ‘মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করে। সেই সঙ্গে আমিরাতের মতো উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশও একই পথে হাঁটবে বলেও আশা প্রকাশ করে। শুধু তাই নয়, আরব ও আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ইসরাইলি গোয়েন্দা বাহিনী।

ইসরাইলের গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী এলি কোহেন বলেছেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে আমিরাতকে অনুসরণ করতে পারে বাহরাইন ও ওমান।

রোববার  রেডিওকে দেয়া সাক্ষাৎকারে কোহেন বলেন, ‘আমিরাতের সঙ্গে এই চুক্তির ধারাবাহিকতায় আরব উপসাগরীয় দেশ এবং আফ্রিকার মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে আরও চুক্তি হবে।’ কোহেন আরও বলেন, ‘আমি মনে করি বাহরাইন ও ওমান এখন নির্দিষ্টভাবে আলোচনায় রয়েছে।

এছাড়াও আমার মূল্যায়ন হল, আগামী বছরগুলোতে আফ্রিকার দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের শান্তিচুক্তি হবে, এদের মধ্যে সুদান প্রধান।’

এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা বাহিনী প্রধান (মোসাদ) ইয়াসি কোহেন জানান, গত সপ্তাহেই বাহরাইনের প্রধানমন্ত্রী খলিফা বিন সালমান আল খলিফার সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

সর্বশেষ সোমবার ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গাবি আশকেনাজির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ওমানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইউসুফ বিন আলাউই বিন আবদুল্লাহ। এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ওমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইসরাইলের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ওমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক টুইটার বার্তায় বলা হয়, বিন আবদুল্লাহ ও গাবি আশকেনাজি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে আলোচনা করেছেন। ওমান এরই মধ্যে আমিরাত-ইসরাইল চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এ ব্যাপারে বিন আবদুল্লাহ আশকেনাজিকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির প্রচেষ্টা হিসেবে ও শান্তি আলোচনাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় ওমান।

একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের বৈধ দাবি আদায়ের লক্ষে ও পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে শিগগিরই শান্তি আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আমিরাত ও ইসরাইল চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও তার বিশেষ উপদেষ্টা জারেড কুশনার বলেছেন, ইসরাইলের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা আগামী দিনগুলোতে আসছে।

মনে করা হচ্ছে, নভেম্বরে মার্কিন নির্বাচনের আগেই ওমান সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে আসতে পারে। কুশনার বলছেন, অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পর সৌদি আরব ইসরাইলের সঙ্গে প্রকাশ্য সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে।

যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও গত কয়েক বছরে ইসরাইল প্রসঙ্গে খোলামেলা অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরাইলিদের সৌদি ভ্রমণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। ওই সময় এক ইসরাইলি ব্লগারকে সাদর অভ্যর্থনা জানায় রিয়াদ।

সূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও জেরুজালেম পোস্ট