ইরান নয়, তুরস্ককে নিয়ে ভয়ে আছে ইহুদিবাদী ইসরাইল

আমিরাত-ইসরাইল ঐতিহাসিক চুক্তির জন্য ইসরাইলিদের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সাধুবাদ যিনি পাচ্ছেন তিনি হলেন দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ইয়োসি কোহেন।

দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা প্রধানদের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করেছেন, এখনো করছেন। তাদের বুঝিয়েছেন ওই অঞ্চলে তাদের প্রধান শত্রু ইরান।

কিন্তু বিশ মাস আগে ঘটনা পাল্টে যায়। নতুন পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন মোসাদ প্রধান। তিনি উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর গোয়েন্দা প্রধানদের অবহিত করেছেন ইরানের শক্তি এখন অকার্যকর। বারবার তিনি মিশর, সৌদি আরব এবং আমিরাতের সহযোগীদের বলে আসছেন, ইরান নয়, এখন তাদের সত্যিকারের হুমকি তুরস্ক।

ইরানের পরমাণু আর্কাইভ থেকে তথ্য হাতিয়ে নেয়ার পরই তিনি এমন তথ্য জানান। তথ্য হাতিয়ে নেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে মোসাদ প্রধান দেখভাল করেন।

প্রকাশিত এক নিবন্ধে রজার বয়েজ বলেন, মোসাদের প্রধান এখন উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোকে তুরস্কের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছেন। যেমন আগে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছেন। মোসাদ প্রধান ইয়োসি কোহেন মিশর, আমিরাত এবং সৌদি আরবের গোয়েন্দাদের সঙ্গে বহুবার বৈঠক করেছেন।

বয়েজ বলেন, মোসাদ প্রধান ইরানকে এখনো তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে। তবে তেহরানকে দমানোর জন্য নিষেধাজ্ঞা, গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং তাদের বিরুদ্ধে গোপন অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ইরানকে এভাবে কাবু করা গেলেও তুরস্কের শক্তিশালী কূটনীতি এবং সুক্ষ হিসেব-নিকাষ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ঝুকিপূর্ণ বলে তুলে ধরছেন তিনি। এছাড়া, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আঙ্কারা অন্যমাত্রার চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে জানান মোসাদ প্রধান।

নিবন্ধে বলা হয়, গ্রিস এবং তুরস্কের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষমতা এখন ন্যাটোর নেই। ন্যাটো সেই ম্যাজিক হারিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান তুরস্ককে যুদ্ধের জন্য উজ্জীবিত করছেন বলে নিবন্ধে মন্তব্য করা হয়। এরদোয়ানের অব্যাহত বিরোধী নির্মূলনীতিতে সমর্থকরাও বিরক্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এ কারণে দিন দিন পুরো অঞ্চলে বন্ধুশূন্য হয়ে যাচ্ছেন এরদোয়ান। বলেন বয়েজ।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ন্ত্রণে এরদোয়ানের পাগলামী নীতির কারণে সব জায়গায় তার শত্রু বাড়ছে। তার আগ্রাসনের পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে কাতার, আজার বাইজান এবং মেয়াদোত্তীর্ণ জাতিসংঘ স্বীকৃতি লিবিয়ার ত্রিপোলি সকার। ত্রিপোলি সরকারের মেয়াদ শেষ হয়েছে আরো তিন বছর আগে, বলেন বয়েজ।

নিবন্ধে বলা হয়, অন্যদিকে গ্রিসকে সমর্থন দিচ্ছে লিবিয়ার বিদ্রোহী, ফ্রান্স, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল, সাইপ্রাস, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আর্মেনিয়াসহ অনেকে।

মোসাদ যেহেতু তুরস্ককে ইরানের চেয়ে বড় হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি সম্পূর্ণভাবে পাল্টে যেতে পারে। ইসরাইলের নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদেরকে এতে সম্পৃক্ত করতে পারে, বলেন রজার বয়েজ।