ইরানে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে দাঁড়াল অ্যামনেস্টি

ইরানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের উপর ব্যাপক দমপীড়ন চালানোর অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রতিবাদে নভেম্বরে বিক্ষোভে নামে সাধারণ মানুষ। আন্দোলন দমাতে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি গণগ্রেফতার চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। বন্ধ করে দেয়া হয় ইন্টারনেট পরিষেবা।

আটক করা হয় অন্তত ৭ হাজার আন্দোলনকারীকে। যার মধ্যে ১০ বছর বয়সী শিশুও ছিল। বিক্ষোভের ভিডিও, আদালতে দেয়া অভিযোগপত্র, আদালতের বিবৃতি এবং অর্ধশতাধিক আটককৃতের সাক্ষাতকার মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অ্যামনেস্টি।

আটককৃতদের কাছ থেকে তথ্য বের করার জন্য তাদের উপর ব্যাপকহারে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ সংস্থাটির। যাকে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘন আখ্যা দেয়া হয়েছে। বলা হয়, আন্দোলন বানচালে গণহারে আটক, জোরপূর্বক ছত্রভঙ্গসহ নানা ধরনের নৃশংস পদ্ধতি ব্যবহার করেছে তেহরান প্রশাসন।

 

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, আটকের পর বিক্ষোভের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী? বিরোধী দলের সদস্য কী না? বিদেশি সরকার বা গণমাধ্যমের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের যোগসূত্র আছে কী না? এসব প্রশ্নের জবাব খুঁজতে অমানবিক পন্থা অনুসরণ করে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। এর আগে বিক্ষোভের বিষয়ে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তেহরান।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক উপপরিচালক ডায়না এলটাহাও বলেন, অপরাধ, মানবাধিকার লঙ্ঘন ধামাচাপা দেয়ার জন্য জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নিয়ে মিথ্যাচার করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।

মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, তারা একটি তালিকা করেছে। যেখানে ৫০০ জনের বেশি অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। যারা বিচারের নামে রাষ্ট্রীয় অবিচারের শিকার। তাদেরকে ১ মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া হয়।

নির্যাতনের পদ্ধতি সম্পর্কে অ্যামনেস্টি জানায়, পানিতে ডুবানো, মারধর, ইলেক্ট্রিক শক, যৌনাঙ্গে গোলমরিচ দেয়া, যৌন সহিংসতা, হাত,পায়ের নখ তুলে ফেলার মতো নৃশংসতা চালানো হয়।

নির্যাতনের শিকার এক ব্যক্তি অ্যামনেস্টিকে জানান, যখন ইলেক্ট্রিক শক দেয়া হয়েছে, মনে হয়েছে সারাশরীরে লাখ লাখ সুই ফুটানো হচ্ছে।

আরেক ব্যক্তি জানান, পা খুঁটিতে বেঁধে আমাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের এ পদ্ধতিকে চিকেন কাবাব বলা হয় বলেও অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে জানানো হয়।

নভেম্বরে বিক্ষোভের সময় পেট্রোল পাম্পে আগুন, পুলিশ স্টেশনে হামলা এবং দোকানপাট লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মে মাসে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায় বিক্ষোভে ২৩০ জন নিহত হয়।

অসমর্থিত সূত্রের বরাতে জাতিসংঘের স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থার একজন বিশেষজ্ঞ জানান, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংসতায় ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।

ইরান ওই বিক্ষোভকে দুর্বৃত্তায়ন আখ্যা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং সৌদি আরবকে দায়ী করে তারা। একে গভীর ষড়যন্ত্র বলেও অভিহিত করে ইরান।

২০১৮ সালে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে তেহরানের অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পরে। ২০১৫ সালে ৬ বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের ওই পরমাণু চুক্তি সই হয়।

ইউনিভার্সিটি অব তেহরানের নর্থ আমেরিকা বিষয়ক প্রধান মোহাম্মদ মারান্দি বলেন, অ্যামনেস্টি একটি পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিষ্ঠান। মার্কিন প্রশাসনসহ পশ্চিমা সরকারগুলো যার পৃষ্ঠপোষক।