ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে পাশ্চাত্যের অভিযোগ অনুমান-নির্ভর: রাশিয়া

রাশিয়া বলেছে, ইরানের ব্যাপারে নয়া মার্কিন প্রশাসনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এখনো ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করে যাচ্ছে জো বাইডেন প্রশাসন।

বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের পরমাণু সমঝোতা সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া।

তিনি বলেন, “দুঃখজনকভাবে সাবেক মার্কিন প্রশাসনের ইরান সংক্রান্ত নীতি পুনর্মূল্যায়নের কোনো প্রচেষ্টা আমরা বর্তমান মার্কিন প্রশাসনে দেখছি না। প্রকৃতপক্ষে আমেরিকা ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী ইরানের ওপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞাসহ সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও আমেরিকা আবার একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।

রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলো যে অভিযোগ করছে তারও কোনো ভিত্তি নেই। এ সম্পর্কে যা কিছু বলা হচ্ছে তা অনুমান ও কল্পনানির্ভর। এসব কথার কোনোটাই বাস্তবসম্মত নয় এবং জাতিসংঘ মহাসচিবও তা স্বীকার করেছেন।

২০১৫ সালের জুন মাসে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে পরমাণু সমঝোতা সই করে ইরান। এর এক সপ্তাহ পরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব পাস করে ওই সমঝোতাকে আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত করা হয়। কিন্তু ২০‌১৮ সালের মে মাসে তৎকালীন মার্কিন সরকার এই সমঝোতা থেকে আমেরিকাকে একতরফাভাবে বের করে নিরাপত্তা পরিষদের ওই প্রস্তাব লঙ্ঘন করে।

মঙ্গলবার বিষয়টি উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক প্রতিবেদনে ইরানের পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানান। তার ওই প্রতিবেদন নিয়ে বুধবার বৈঠকে বসেছিল নিরাপত্তা পরিষদ।

পরমাণু সমঝোতায় ইরানকে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু এখন আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে, ইরানের প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও সীমিত করতে হবে। তবে তেহরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, নিজের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে কারো সঙ্গে কথা বলতেও রাজি নয় ইরান।

সূত্রঃ পার্সটুডে