ইরানবিরোধী সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না: মার্কিন প্রতিনিধি রবার্ট মালি

মার্কিন সরকারের ইরান বিষয়ক প্রতিনিধি রবার্ট মালি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে না এবং কেবল সেইসব নিষেধাজ্ঞাই তুলে নেয়া হবে যা পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার জন্য জরুরি।

ইরান বিষয়ক মার্কিন এই প্রতিনিধি আরো বলেছেন, ইরানিরা চায় ২০১৮ সাল থেকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল তার সবই তুলে নেয়া হোক। কিন্তু আমাদের দৃষ্টিতে ইরানের এ দাবি অনেক বেশি এবং ট্রাম্পের দেয়া সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে না। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও বহুবার বলেছেন, কেবল সেইসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে যা পরমাণু সমঝোতার পরিপন্থী। তবে ট্রাম্প যেসব নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন তাতে চুক্তির পরিপন্থী কোনো নিষেধাজ্ঞা তেমন ছিল না। কিন্তু তেহরান চায় ট্রাম্পের আমলে ইরান বিরোধী চাপিয়ে দেয়া ১৫০০টি নিষেধাজ্ঞার সবই প্রত্যাহার করে নিতে হবে।

বাইডেন প্রশাসন পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বাস্তবতা হচ্ছে তিনি এমন সব অবান্তর শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যার ফলে পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। পরমাণু সমঝোতাকে টিকিয়ে রাখার জন্য বর্তমানে ভিয়েনায় চার যোগ এক গ্রুপের সঙ্গে ইরানের যে আলোচনা চলছে তাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও তারা একদিকে ইরানের পরমাণু কার্যক্রমে সীমাবদ্ধতা আরোপের দাবিতে অটল রয়েছে এবং অন্যদিকে নতুন করে চুক্তি সইয়ের জন্য কিছু শর্ত আরোপ করেছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ঘটনাবলীতে ইরান নাক গলাতে পারবে না বা এ অঞ্চলে তেহরানের কোনো প্রভাব থাকবে না। তবেই দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে ওয়াশিংটন।

এদিকে, পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার ব্যাপারে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন সম্প্রতি একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ইরানকে। তিনি ইরানকে হুমকি দিয়ে বলেছেন ভিয়েনায় চলমান আলোচনা প্রক্রিয়া থেকে তিনি বেরিয়ে যেতে পারেন। এ ব্যাপারে ইরান বিষয়ক মার্কিন প্রতিনিধি রবার্ট মালি বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে অনন্তকাল আলোচনা চলতে পারে না এবং ওয়াশিংটনের ইচ্ছে অনুযায়ী ইরান কোনো সমঝোতায় না এলে আমরাও আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাব।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, রবার্ট মালি আসলে এ ধরনের কথাবার্তা বলে ইরানকে রাজনৈতিক ও মনস্তাত্বিক চাপে ফেলার চেষ্টা করছে যাতে তেহরান ওয়াশিংটনের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেন পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসার ব্যাপারে ইরানের সঙ্গে সৃষ্ট বিরোধের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন ইরান যদি পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নের কাজ আবারো শুরু করে তাহলেই কেবল দেশটির সঙ্গে কোনো সমঝোতা হতে পারে। তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে পরমাণু সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্রের ফিরে আসাটা কঠিন হবে।

ওদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিব যাদেহ মার্কিন কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্যের জবাবে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা টিকে থাকার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে। যেহেতু মার্কিন সরকার আগে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেছে সে কারণেই তাদেরকেই চুক্তিতে আগে ফিরে আসতে হবে এবং নিষেধাজ্ঞা সত্যিই তুলে নেয়া হল কিনা তা যাচাই করেই ইরানও পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসবে।

সূত্রঃ পার্সটুডে