ইউরোপ সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য; তারা নির্লজ্জভাবে মানবাধিকারের কথা বলে: নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী মানবাধিকার নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বৈত আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, সুনির্দিষ্টি কিছু পশ্চিমা দেশ সন্ত্রাসীদের জন্য অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া সত্ত্বেও তারা নিজেদেরকে নির্লজ্জভাবে মানবাধিকারের রক্ষক বলে দাবি করে যাচ্ছে।

আজ (সোমবার) ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান ও নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ ইব্রাহিম রায়িসি একদল বিচারপতি ও অ্যাটর্নিকে নিয়ে সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ মন্তব্য করেন। আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, ইরানের সরকার-বিরোধী সন্ত্রাসী মুজাহেদিনে খালক বা এমকেও গোষ্ঠীর জঙ্গিরা ফ্রান্সসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশে অবাধে বিচরণ করছে।

তিনি বলেন, “ফ্রান্সসহ অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ নির্জলজ্জভাবে মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে কথা বলছে। অথচ তারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদেরকে সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে এমনকি তাদেরকে এসব দেশের পার্লামেন্টেও কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে। ”

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এমকেও গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী হামলায় এদেশের তৎকালীন বিচার বিভাগের প্রধান আয়াতুল্লাহ মোহাম্মাদ বেহেশতির শাহাদাতের কথা স্মরণ করেন। ইরানে ইসলামি বিপ্লবের দুই বছরের মাথায় ১৯৮১ সালের ২৮ জুন তেহরানে এক ভয়াবহ বোমা হামলা চালিয়ে আয়াতুল্লাহ বেহেশতিকে হত্যা করে এমকেও।

আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন, ৪০ বছর আগের আজকের দিনে ইরানের এই প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বসহ মোট ৭১ জনকে এক বোমা হামলায় হত্যা করেছিল এমকেও। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা বর্তমানে ফ্রান্সে স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

ভাষণের অন্য অংশে তিনি গত দুই বছরে ইরানের বিচার বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার জন্য ইব্রাহিম রায়িসিকে ধন্যবাদ জানান। সর্বোচ্চ নেতা বলেন, দুই বছরের কিছু বেশি সময় আগে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিচার বিভাগে বড় ধরনের পরিবর্তন করে বেশ কিছু সাফল্য অর্জন করেছেন ইব্রাহিম রায়িসি। গত ১৮ জুনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুলভাবে ভোট দেয়ায় আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানান। ওই নির্বাচনে আয়াতুল্লাহ ইব্রাহিম রায়িসি শতকরা প্রায় ৬২ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।

সূত্রঃ পার্সটুডে