ইউরোপীয় ইউনিয়নকে গুড়িয়ে দেয়ার হুমকি তুরস্কের

পূর্ব ভূমধ্যসাগর ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেওয়া নিষেধাজ্ঞার হুমকিকে ভণ্ডামি আখ্যা দিয়েছেন তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতাই। শনিবার (২৯ আগস্ট) টুইট বার্তায় ইইউর হুমকিকে গুড়িয়ে দেওয়ার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, তুরস্কের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনে কোনো ব্যবস্থা নিতে সংকোচ করবে না আঙ্কারা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম  প্রতিবেদনে জানানো হয়, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের জ্বালানি অনুসন্ধান নিয়ে সম্প্রতি বিবাদে জড়িয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্য দেশ গ্রিস ও সাইপ্রাস। এই উত্তেজনা নিরসনে অগ্রগতি অর্জিত না হলে আঙ্কারার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেন ইইউর পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বার্লিনে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে তিনি বলেন, কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপসহ তুরস্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় দেশগুলোর জোটটি।

জোসেফ বোরেলের হুমকির প্রতিক্রিয়ায় ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতাই টুইট বার্তায় লিখেছেন, পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্কের নিজস্ব এলাকায় চালানো কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার ডাক দেওয়ার পাশাপাশি আবার অন্য পরিকল্পনা করা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভণ্ডামি।

তিনি আরও লেখেন, আমরা শান্তি ও কূটনীতির ভাষায় অভ্যস্ত, কিন্তু তুরস্কের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কোনও সংকোচ করব না।

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই সমুদ্র এলাকায় তেল ও গ্যাসের মজুত অনুসন্ধান জোরদার করেছে তুরস্ক। গত ২১ আগস্ট কৃষ্ণসাগরে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল মজুতের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট রেসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। ওই মজুত পাওয়ার পরও অনুসন্ধান কাজে আরও গতি আনে আঙ্কারা।

এ দিকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তেল ও গ্যাস মজুতের মালিকানা নিয়ে গ্রিসের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ছে তুরস্কের। সেই উত্তেজনার মধ্যেই পাল্টাপাল্টি সামরিক মহড়ার ঘোষণা দেয় পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য দেশ দুটি।

সূত্র: আল-জাজিরার