ইউএনওর মামলায় যুবলীগ নেতার পক্ষে ৫০ আইনজীবী, জামিন নামঞ্জুর

বরগুনার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়ের করা মামলায় শহর যুবলীগ নেতা ও জেলা পরিষদ সদস্য আরিফুল হাসান আরিফের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। যুবলীগ নেতার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ৫০ জন আইনজীবী।

বুধবার দুপুর ১টার দিকে আমতলী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সাবিক হোসেন জামিন নামঞ্জুর করেন। ৩১ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

বুধবার সকালে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন আইনজীবী আরিফের পক্ষে আইনি সহায়তা দিতে আমতলী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানিতে অংশ নেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক মাহবুবুল বারি আসলাম বলেন, আদালতের কাছে আমরা আরিফের পক্ষে জামিন চেয়ে আবেদন করি। আদালতে আমরা বলেছি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাটক সাজিয়ে ২৮ ঘণ্টা আটকের পর আরিফের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মামলা করেছেন।

আরিফ ষড়যন্ত্রের শিকার। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। এমনকি তিনি প্রকাশ্য একজন আইনজীবীকে ‘জানোয়ার’ বলে গালিগালাজ করেছেন; যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। আমরা আরিফের জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে (জেলা ও দায়রা জজ আদালত) আবেদন করব।

উল্লেখ্য, ৮ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে আমতলী লঞ্চঘাটে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন ও যুবলীগ নেতা আরিফের মধ্য কথাকাটাকাটি হয়। ওই সময় আরিফকে পুলিশের হাতে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন।

২৮ ঘণ্টা পর রোববার বিকালে ওই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাদী হয়ে আরিফসহ তিনজনের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা ও হত্যাচেষ্টায় আমতলী থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ সেই মামলায় আরিফ ও রায়হানকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৯ আগস্ট সন্ধ্যায় আমতলী আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করে।

এরপর বরগুনা জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিথ্যা মামলা দিয়ে আরিফকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। জেলা যুবলীগ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও আরিফের নিঃশর্ত মুক্তি চাইছে।