আল্লাহর রহমতে দেশে যুদ্ধ শেষ হয়েছে : তালেবান মুপাত্র

আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তালেবান। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছে তারা। আজ রোববার তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের এক মুখপাত্র এসব কথা জানান বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

মুখপাত্র নাইম সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘আফগানিস্তানের জনগণ ও মুজাহিদিনদের জন্য আজ বিশাল এক দিন। তারা গত ২০ বছরের প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের ফল
দেখতে পেয়েছে। ‘আল্লাহর রহমতে দেশে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।

তালেবান ঘোষণা করেছে, আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে এবং শিগগিরই সরকার গঠন করা হবে। গতকাল রোববার তালেবান বাহিনী কাবুলে প্রবেশ করে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।

মোহাম্মদ নাইম নামে তালেবানের ওই মুখপাত্র আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তালেবান বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে চায় না এবং শাসনের ধরন ও রাষ্ট্রীয় গঠন কাঠামো খুব শিগগিরই স্পষ্ট করা হবে। শরীয়াহ আইনের মধ্যে থেকেই নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিশ্চিত করা হবে। একইসঙ্গে বাকস্বাধীনতাও নিশ্চিত করা হবে।

তিনি বলছেন, বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবান শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে চায় এবং ইতোপূর্বে কয়েকটি দেশের সঙ্গে শুরু হওয়া যোগাযোগের চ্যানেলগুলোও আরও উন্নত করতেও আগ্রহী তারা।

তালেবানের এই মুখপাত্র আরও বলেন, ‘যেকোনো সমস্যা সমাধানের জন্য আমাদের সঙ্গে বসতে আমরা সকল দেশ ও অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
চলতি বছর এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে সব মার্কিন ও ন্যাটো সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর মে মাস থেকে আফগানিস্তান দখলে অভিযান শুরু করে তালেবানগোষ্ঠী।

তারা অবিশ্বাস্য দ্রুততায় মাত্র আড়াই মাসের মধ্যে দেশের ৩৪টি প্রদেশের ২৮টি দখল করে বর্তমানে কাবুলে অবস্থান করছে। ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি পদত্যাগ করেছেন এবং দেশটিতে একটি অন্তর্র্বতী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।

আশরাফ গনি একটি বিমানে করে তাজিকিস্তান চলে গেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স। আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রেসিডেন্টের অফিস বলেছে, নিরাপত্তার কারণে তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছে না।

আফগানিস্তানের উন্নয়নকাজে সহযোগিতা ও মানবিক ত্রাণ পরিচালনা করায় ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তালেবান। একইসাথে দেশটিতে সামরিক তৎপরতা
চালানোর ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছে তারা।

একইসাথে শাহিন বলেন, আফগানিস্তানের অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, পুনর্গঠন ও জনকল্যাণে ভারত যেসব কাজ করেছে সেজন্য আমরা তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। গত দুই দশকে আফগানিস্তানের অবকাঠামো নির্মাণ কাজে কয়েক শ’ কোটি ডলার খরচ করেছে ভারত।

তালেবান ক্ষমতা গ্রহণ করলে বিদেশি কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে সে সম্পর্কে তালেবান মুখপাত্র বলেন, কূটনীতিকদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার; তাদের কোনো ক্ষতি আমরা করব না।

সাক্ষাৎকারে উগ্র ‘জঙ্গি’ গোষ্ঠীগুলোর সাথে তালেবানের সম্পর্ক থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন সোহেল শাহিন। তিনি বলেন, ভারতসহ অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর কাজে আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করার অনুমতি দেবে না তালেবান।

সূত্র : আল জাজিরা