আমেরিকাকে বিশ্বাস করা আফগান সরকারের ভুল ছিল

আফগানিস্তানের তালেবান গোষ্ঠী আবারো প্রমাণ করেছে আফগান রাজনীতিবিদদের মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর আস্থা রাখা ছিল ভুল পদক্ষেপ। অবশ্য এর আগেও এ অঞ্চলের রাজনীতিবিদরা যারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মিত্র মনে করতেন তারাও এখন স্বীকার করছেন ওয়াশিংটনের ওপর আস্থা রাখা ভুল ছিল।

জর্জিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মিখাইল সাকাশুইলি যিনি কিনা মার্কিন সমর্থন নিয়ে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ২০০৩ সালে ক্ষমতায় এসেছিলেন।কিন্তু ক্ষমতায় এসে তিনি কার্যত দক্ষিণ ককেশীয় অঞ্চলের বিষয়ে বিশেষ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন নানা ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের হাতিয়ারে পরিনত হয়েছিলেন। কিন্তু আমেরিকার বিশ্বস্ত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ২০১৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত হন। বর্তমানে তিনি প্রায়ই রাশিয়ার বিরুদ্ধে জর্জিয়া ও ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন কুপরামর্শের নানা দিক সম্পর্কে কথা বলেন এবং বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করেন।

আফগানিস্তানেও বিগত বছরগুলোতে আশরাফ গনি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে মার্কিন কর্মকর্তাদের বহু নির্দেশনা পালন করে গেছেন। আফগানিস্তানের ব্যাপারে তিনি মার্কিন নীতি বাস্তবায়ন করায় দেশটির জনগণের ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। এমনকি দেশটির প্রতিবেশী সরকারগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টির জন্য তিনি মার্কিন পরামর্শ বাস্তবায়ন করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আফগান নীতি ব্যর্থ হওয়ায় এবং অবশেষে সেদেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হওয়ায় তালেবানের মতো শত্রুর মুখে আশরাফ গনি সরকারকে একা ফেলে চলে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আশরাফ গনি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখার পরিণতিতে তালেবানদের মোকাবেলায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত তালেবানরা পুরো আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে। গুরুত্বপুর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, আশরাফ গনি সরকারের মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এখন সেইসব দেশের কাতারে শামিল হয়েছে যারা আফগানিস্তানের আগামী সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য লাইনে আছে।

এদিকে, আশরাফ গনি সরকারের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তিত্ব কঠোর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তুরস্কের ওয়াতান দলের প্রধান দোগু পারিনচাকের সমালোচনার কথা উল্লেখ করা যায়। তিনি আফগানিস্তানের ব্যাপারে মার্কিন ব্যর্থ নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, আফগানিস্তানের ঘটনাবলীতে ওয়াশিংটনের প্রতি যে আস্থা রাখা যায় না সেটাই আবারো প্রমাণিত হল।

সূত্রঃ পার্সটুডে