আফগানিস্তান নিয়ে ইউরোপের অভিযোগ প্রত্যাখান ন্যাটোর

আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে মার্কিন প্রশাসন মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করেননি বলে অভিযোগ করে আসছিল তাদের ইউরোপীয় মিত্ররা। তবে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ।

শুক্রবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টলটেনবার্গ বলেন, ‘আপনি ইউরোপের বিভিন্ন অভিযোগ শুনেছেন এবং কেউ কেউ পরামর্শ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন। কিন্তু আমি সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। অবশ্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে পরামর্শ করেছে, কিন্তু দিন শেষে, প্রতিটি দেশকেই সেনা মোতায়েনের বিষয়ে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বেশ কয়েকজন কূটনীতিক এবং ইইউ নেতারা পরামর্শ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন। কারণ সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় মাটিতে সন্ত্রাসী হামলার এবং ২০১৫ সালের অভিবাসন সঙ্কটের পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দরজায় নতুন করে অভিবাসীদের স্রোত আছড়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট চার্লস মিশেল বুধবার প্রকাশিত একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যখন যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে তালেবানদের সাথে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং তারপর তাদের প্রত্যাহার নিশ্চিত করার জন্য, তারা তাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সাথে খুব কমই পরামর্শ করেছিল।

নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্টলটেনবার্গ অবশ্য স্বীকার করেছেন যে, এই আলোচনা অপ্রতুল ছিল। কারণ একবার হোয়াইট হাউস সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া অন্য মিত্রদের পক্ষে মিশন চালিয়ে যাওয়া কঠিন ছিল। তাদের কাছে কোন বাস্তবসম্মত বিকল্প ছিল না।’ তিনি যুক্তি দেখান যে, ‘একবার যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি চলে যাবেন। এরপরে ইউরোপীয় মিত্রদের তাদের পার্লামেন্টে যাওয়ার জন্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য চালু করা একটি মিশনে আফগানিস্তানে ক্ষতির পথে আরও বেশি অর্থ এবং আরো সৈন্য পাঠানোর খুব কঠিন হতো।

কি ভুল হয়েছে তা নিয়ে ইইউ কূটনীতিকদের মিশ্র মতামত রয়েছে। সাধারণভাবে, তারা সম্মত হয় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে তাদের নিজ নিজ সংসদকে আরও সৈন্য পাঠাতে এবং আরও অর্থ ব্যয় করতে বলা অসম্ভব ছিল। কিন্তু কেউ কেউ এটাও বলেন যে, ন্যাটোর আলোচনা যথেষ্ট খোলামেলা ছিল না।

পর্তুগালের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জোয়াও গোমেস ক্রাভিনহো গত মাসে পলিটিকোকে বলেছিলেন, ‘ন্যাটোতে সংলাপের একটি বাস্তব সমস্যা রয়েছে। যদিও তিনি এটাও মেনে নিয়েছিলেন যে, বাইডেন সঠিক ছিলেন যখন তিনি বলেছিলেন ব্রাসেলসে ন্যাটো সম্মেলনে, অথবা এপ্রিল মাসে প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মন্ত্রিসভা বৈঠকে তার (মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের) বিরুদ্ধে কোন উল্লেখযোগ্য প্রতিবাদ হয়নি, যেখানে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আফগানিস্তানের পরাজয় ইইউ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্মিলিত প্রতিরক্ষা জোরদার করার জন্য একটি বিতর্ক পুনরায় চালু করেছে, বিশেষ করে ৫ হাজার সৈন্যের একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করার জন্য। এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে ফ্রান্স, কিন্তু পূর্ব ও বাল্টিক দেশগুলোর সন্দেহ আছে কারণ এটি ন্যাটোর প্রচেষ্টাকে নকল করতে পারে এবং জোটকে দুর্বল করতে পারে। স্টলটেনবার্গ ইউরোপীয় সামরিক বাহিনী গঠনের আলোচনায় ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।

স্টলটেনবার্গ তার দৃষ্টিভঙ্গির পুনরাবৃত্তি করে বলেন যে, ‘আমরা ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা বিষয়ে আরও কিছু করার জন্য জোর দিচ্ছি, কিন্তু বিকল্প হিসেবে নয় বরং ন্যাটোর অংশ হিসাবে।’ এবং ‘ন্যাটোর কমান্ড কাঠামোর নকল করার জন্য সমান্তরাল কাঠামো প্রতিষ্ঠার যে কোন প্রচেষ্টা, আমাদের একসাথে কাজ করার যৌথ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেবে কারণ জটিলতা রোধ করার জন্য আমাদের একত্রে কাজ করা প্রয়োজন।

সূত্র: পলিটিকো।