আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাপ্রত্যাহার; আফগান নারী ও শিশুরা আতঙ্কিত: বুশ

বার্লিনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলেকে তিনি বলেন, আমি এমনটিই মনে করি যে, এতে আফগান নারী ও শিশুরা অবিশ্বাস্য খারাপ পরিণতির মুখোমুখি হবে। আমার মনে হয়, পরিস্থিতি চরম খারাপ অবস্থার দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সাবেক প্রেসিডেন্টই আফগান যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। ২০০১ সালের ১১ সেপেম্বরে টুইন টাওয়ারে সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানে তিনি সেনা পাঠিয়েছিলেন।

বুশ সাধারণত তার উত্তরসূরির সিদ্ধান্ত নির্ধারণের সমালোচনায় অনিচ্ছুক। কিন্তু আফগানিস্তান থেকে যখন মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে, তখন তালেবানের অগ্রযাত্রায় দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাবেক এই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমার শঙ্কা, আফগান নারী ও শিশুরা অবর্ণনীয় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তারা আতঙ্কিত।

এদিকে প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ক্রোসিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান বিদ্রোহীরা। দেশটি থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত এটিই তাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অগ্রযাত্রা। বুধবার (১৪ জুলাই) পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেন, পাকিস্তানি শহর চামাম ও আফগান শহর ওয়েশের মধ্যকার সীমান্ত ক্রোসিংয়ের ফ্রেন্ডশিপ ফটক থেকে আফগান সরকারের পতাকা নামিয়ে দিয়েছে তালেবান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আফগানিস্তানের কান্দাহারের দক্ষিণে এই ক্রোসিংয়ের অবস্থান। যা স্থলবেষ্টিত দেশটির দ্বিতীয় ব্যস্ততম সীমান্ত প্রবেশ পথ। এছাড়া আফগানিস্তানের বিপুল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে পাকিস্তানের বন্দরের মূল সংযোগ হচ্ছে এই ক্রোসিং। আফগান সরকারের তথ্য বলছে, প্রতিদিন এই সীমান্ত ক্রোসিং দিয়ে ৯০০টি ট্রাক চলাচল করে। তালেবানের নিয়ন্ত্রণ ঘোষণার পর সীমান্তের ওই অংশ বন্ধ ঘোষণা করেছে পাকিস্তান।

এর আগে ওয়েশ অঞ্চলে আফগান সরকারি বাহিনী ও তালেবানের মধ্যে ব্যাপক লড়াই হয়েছে। আফগান সরকারের কর্মকর্তারা বলেন, তালেবান যোদ্ধাদের তাড়িয়ে দিয়েছে সরকারি বাহিনী। কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলদাক সীমান্ত জেলা এখনও সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু বেসামরিক নাগরিক ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা বলেন, তালেবান ওয়েস সীমান্ত চৌকিগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।

সীমান্ত এলাকায় মোতায়েন করা পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলেন, আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্যে ওয়েস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অঞ্চলটি এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। চামামের কর্মকর্তারা বলেন, এই ফটক দিয়ে সব ভ্রমণ বন্ধ করে দিয়েছে তালেবান।

আর এই সীমান্ত ক্রোসিং নিয়ন্ত্রণের কথা স্বীকার করেছেন তালেবানের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদিন। ২০০১ সালে মার্কিন অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কাবুল সরকার ও বিদেশি বাহিনীকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে লড়াই করে আসছে তালেবান বিদ্রোহীরা।