আফগানিস্তানের মাটি ও স্বাধীনতা একমাত্র তালেবানের হাতেই নিরাপদ

সম্প্রতি তুরস্কভিত্তিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডে আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইস্যুতে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন-তালেবান আফগানিস্তানের প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী। আফগানিস্তানের মাটির সম্মান ও স্বাধীনতা একমাত্র তালেবানের হাতেই নিরাপদ।

তালেবানের মুখপাত্রের কাছে টিআরটি ওয়ার্ল্ডের সাংবাদিক আলী আসলান প্রশ্ন করেন, আফগানিস্তানে আবার রক্ত নিয়ে হোলি খেলা শুরু হয়েছে, তালেবান কেন এই রক্তপাত ঘটাচ্ছে, আফগানিস্তানের ভবিষ্যত কী?

এই প্রশ্নের জবাবে তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বলেন, গত পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহে দেড়শ জেলা আমাদের হাতে এসেছে। কোনো বাহিনীর পক্ষে লড়াই করে দ্রুত এত বিশাল এলাকা দখল করা সম্ভব? তালেবানের যুদ্ধশক্তি কি এত বেশি? আসলে তা নয়।

আমরা যে সব এলাকা দখল করছি সেখানকার সরকারি বাহিনী স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করছে। তারা আমাদের দলে যোগ দিচ্ছে, কারণ তারা জানে-কাবুল প্রশাসন মূলত দখলদারদের উচ্ছিষ্টভোগী। অন্যদিকে তালেবান আফগানিস্তানের প্রকৃত স্বাধীনতা সংগ্রামী। আফগানিস্তানের মাটির সম্মান ও স্বাধীনতা একমাত্র তালেবানের হাতেই নিরাপদ।

আফগানিস্তানে প্রায় ২০ বছরের লড়াই শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন বাহিনী। এরমধ্যে তালেবান যোদ্ধারা দুর্নিবার গতিতে কাবুলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯ জঙ্গি চারটি উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা করেন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি জায়গায়। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বা টুইন টাওয়ারে।

এই হামলার জেরে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ২০০১ সালে আফগান যুদ্ধ শুরু করেছিলেন। প্রায় দুই দশক ধরে চলা আফগান যুদ্ধের ইতি টানছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের আগে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সব সেনা প্রত্যাহার করবে। এ লক্ষ্যে প্রায় সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের একটি প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর কাবুল থেকে সকল বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে তালেবান যোদ্ধারা রাজধানী শহর দখল করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি সেনাদের সমর্থন ছাড়া বর্তমান আফগান সরকারের টিকে থাকা অসম্ভব। কারণ সরকারের অনেক সেনা নিজেদের অবস্থান ছেড়ে তালেবানের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। এই সূত্রে তালেবান অনেক উন্নত অস্ত্র এবং ন্যাটোর রেখে যাওয়া যানবাহন পাচ্ছে নির্বিঘ্নে।