আন্দোলন দমাতে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে মিয়ানমার: জাতিসংঘ

মিয়ানমার সরকার এখন আন্দোলন দমাতে পরিকল্পিতভাবে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন সংস্থাটি। এখন পর্যন্ত ৫৬ শিশুকে হত্যা করেছে জান্তা সরকার।

শুধু শিশু নয়, ক্ষুদ্রগোষ্ঠীদের ওপরও অত্যাচার চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে হত্যার আলামত মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে। এদিকে দমনাভিযানের মুখে হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকছে ভারতে। এ নিয়ে অস্বস্তিতে নয়াদিল্লি। এ অবস্থায় সেনা সরকারকে আগের মতো দৃঢ় সমর্থন দিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন।

গেল পহেলা ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। এরপর গণতন্ত্রবাদীদের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকে জান্তা সরকার। শুরু হয় চরম নির্যাতন। থেমে থাকেনি আন্দোলনও। যা এখনও চলছে। এতে প্রাণ গেছে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯০০ জনের। এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা অর্ধশত। এছাড়া আটক করা হয়েছে অন্তত ৬ হাজার মানুষকে।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখন আন্দোলন দমাতে কৌশল হিসেবে শিশুদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি মাঠ পর্যায়ের তথ্য যাচাই করে এই বিষয়টি অনুসন্ধান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান সংস্থাটির শীর্ষ এ কর্মকর্তা।

মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিখ বলেন, শিশুদের ওপরও মিয়ানমার সেনাবাহিনী যেভাবে অত্যাচার চালাচ্ছে, তা জাতিসংঘের নজরে এসেছে। শিশুদের এই নির্মমতা থেকে দূরে রাখার আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। দুজারিখ বলেন, স্থানীয় ক্ষুদ্রগোষ্ঠীর ওপরও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে জান্তা সরকার। এ অবস্থায় হাজার হাজার মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ঢুকছে।

তাদের মধ্যে অনেক সময় ঢুকে পড়ছে গণতন্ত্রপন্থী যোদ্ধারাও। ভারতের মিজোরাম, মনিপুর ও নাগাল্যান্ড রাজ্যে বর্তমানে মিয়ানমারের প্রায় ১৬ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছে। নাগরিক সমাজ ও সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, আগামী কয়েক মাসে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এ নিয়ে উদ্বেগে আছে নয়াদিল্লি। নরেন্দ্র মোদি শঙ্কা, অঞ্চলটি মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থি কর্মীদের সক্রিয়তার মঞ্চ হয়ে উঠতে পারে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চীন সফরে যান বৃহস্পতিবার। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং হি’র সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। চীনা মন্ত্রী বলেন, বেইজিং এখনো সমর্থন জারি রেখেছে। আগেও যেমন সমর্থন ছিল তেমনই থাকবে।