আদিবাসী শিশুদের গণহত্যার পরও মানবাধিকার রক্ষার দাবি করে কানাডা: ইরান

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদে বলেছেন, আদিবাসী শিশুদের গণহত্যা কানাডার ইতিহাসের এক মানবিক ট্রাজেডি। তাদের ইতিহাসে এ ধরণের ঘটনা থাকার পরও তারা নির্লজ্জভাবে অন্যের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে। আজ (সোমবার) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

খাতিবজাদে আরও বলেন, কানাডায় আদিবাসী শিশুদের গণকবর সন্ধানের ঘটনায় ইরান সমবেদনা জানাচ্ছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, নিজেকে মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরার আগে কানাডার উচিত প্রতিবার নিজের এ ধরণের ঘৃণ্য ইতিহাসের কথা স্মরণ করা। সম্প্রতি কানাডার সাবেক একটি আবাসিক স্কুল থেকে ২১৫টি শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কামলুপস এলাকায় এসব দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এসব শিশু আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ান বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। মূল আদিবাসীদের দমন করে কানাডায় বসতি স্থাপনকারীরা আদিবাসী এসব শিশুকে নির্মমভাবে হত্যার পর সেখানে তাদেরকে গণকবর দিয়েছিল বলে জানা গেছে। ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় কামলুপস ইন্ডিয়ান রেসিডেনসিয়াল স্কুল নামের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৮ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

কামলুপস শহরের স্থানীয় জাতিগোষ্ঠীর প্রধান রোসান্নে ক্যাসিমির শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানান, ‘মৃতদের মধ্যে ৩ বছর বয়সী শিশুদেরও মরদেহ পাওয়া গেছে। এটা এমন এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা যা কল্পনা করতেও গা শিউরে ওঠে এবং আরও দুঃখজনক হলো এ ধরনের নিপীড়ণের ঘটনাগুলোর কোথাও লিপিবদ্ধ হয়নি।’

কানাডার আবাসিক স্কুলগুলোতে বোর্ডিং আবশ্যিক ছিল। ১৯ ও ২০ শতকে এসব স্কুল পরিচালনা করত সরকার ও ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ। এসব স্কুলে জোর করে আদিবাসী কিশোর-তরুণদের রাখা হতো। শিশুদের দেহাবশেষ উদ্ধার হওয়ার স্কুলটি ছিল সবচেয়ে বড় আবাসিক স্কুল।

সূত্রঃ পার্সটুডে